দেশের প্রথম সড়ক ও রেল টানেল তৈরি হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচে। ইতিমধ্যেই এই টানেল তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৮৬৬২ কোটি টাকা। আসামের গোহপুর এবং নুমলীগড়কে যুক্ত করবে এই টানেল । গোহপুর এবং নুমলীগড়কে বর্তমান দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার। সড়ক পথে এই রাস্তা অতিক্রম করতে লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা।
ব্রহ্মপুত্র নদের নীচে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি হলে এই দূরত্ব কমে হবে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার। যাতায়াতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ করতে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরির পরিকল্পনা কেন্দ্রের।
Advertisement
জানা গিয়েছে, এই দুই সুড়ঙ্গের দৈঘ্য হবে ১৫.৭৯ কিলোমিটার। এটি দেশের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রকল্প যেখানে জলের নীচে একসঙ্গে সড়ক ও রেল পথ থাকবে। সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকবে চার লেনের হাইওয়ে। একই সঙ্গে থাকবে একটি রেল লাইন। এই সুড়ঙ্গ পথের মাধ্যেমে গোহপুরে ১৫ নম্বর এবং নুমলীগড়ে ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক যুক্ত হবে।
Advertisement
প্রতি ৫০০ মিটার অন্তর দুটি সুড়ঙ্গের মধ্যে সংযোগকারী পথ থাকবে নিরাপত্তার জন্য। সংযোগকারী পথ দুটি রেলওয়ে সেকশনের সঙ্গেও যুক্ত থাকবে বলে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন, আর্থিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যের প্রসারে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা নেবে। নতুন এই সুড়ঙ্গ পথ চালু হলে আসামের চারটি রেল স্টেশন এবং দুটি বিমানবন্দরের পৌঁছনো খুবই সহজ হবে। তবে শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রে নয়, এই প্রকল্প দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা নেবে।
কারণ উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চিনের লালফৌজের গতিবিধি দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্বেগের। দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় উত্তর-পূর্বের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছন বেশ কিঠন। কিন্তু প্রস্তাবিত এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরি হলে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় সেনার যাতায়াত অনেক দ্রুত ও সহজ হবে। সীমান্তের কাছে পরিকাঠামোর এই উন্নয়ন বেজিংয়ের প্রতিও এক বার্তা বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই সুড়ঙ্গ পথ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ‘চিকেন নেক’ করিডোরেও একটি বড় টানেল তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
Advertisement



