• facebook
  • twitter
Monday, 16 February, 2026

সুন্দরবনে ২ মাস অন্তর কুমির গুনবে বনদপ্তর

ডিসেম্বর মাসে বাঘ গণনার সঙ্গে শুরু হয় কুমির গণনার কাজ

সুন্দরবনে কুমিরের সঠিক সংখ্যা জানা বেশ কঠিন। বাঘের মতোই কুমির শুমারও করা হয়, তবে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বনকর্মীদের ছোট নৌকায় খাঁড়িতে ঢুকে কুমিরের মাথা গুনতে হয়। ডিসেম্বর মাসে বাঘ গণনার সঙ্গে শুরু হয় কুমির গণনার কাজ। মূলত শীতকালেই এই কাজ হয়ে থাকে। এতে কুমিরের সঠিক সংখ‌্যা উঠে আসছে না। সেই সময় সেভাবে কুমির দেখা মেলে না। তাই এবার বনদপ্তর দু’মাস অন্তর শুমার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শীতকালে কুমির ডাঙায় বসে থাকে, তাই সেই সময় গণনা সহজ হয়। তবে এবার শীতকালে কম কুমির দেখা গিয়েছে।

সুন্দরবনে ম‌্যানগ্রোভে জঙ্গলে বাঘের বাস। সেখানে নোনাজল কুমিরের বাসস্থান। বাঘের মতো কুমিরের সংখ‌্যাও বেড়েছে। গত বছর কুমির শুমারে আনুমানিক ২৪২টি কুমির পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে সংখ্যাটি ২০৪ থেকে ২৩৪-এর মধ্যে ছিল। শুমারের সময় বনকর্মীরা শুধু চোখে দেখা কুমির বা তাদের ছাপ দেখে সংখ্যা নির্ধারণ করেন, তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কুমিররা ডিম পাড়ার সময় ডাঙায় উঠে আসে। নির্দিষ্ট স্থানে ডিম পাড়ে এবং চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত মা কুমির বাচ্চাদের দেখভাল করে।

Advertisement

সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়েও আশাবাদী বনদপ্তর। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাঘ শুমারে সুন্দরবনে ১০১টি বাঘ পাওয়া গিয়েছিল। ট্রাপ ক্যামেরার মাধ্যমে সদ্যোজাত ও এক বছরের কম বয়সি শাবক ধরা পড়ে না। এখনও পর্যন্ত এক বছরের বেশি বয়সি শাবকের ছবি মিলেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক তথ্য নির্ণয় করার জন্য ট্রাপ ক্যামেরার সব ছবি ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়াকে পাঠানো হচ্ছে,

Advertisement

সুন্দরবনের রায়দিঘি রেঞ্জে সর্বাধিক কুমির দেখা গেছে, এছাড়া সজনেখালি ও ন্যাশনাল পার্কের এলাকাতেও কুমিরের সংখ্যা কম নয়। নতুন প্রক্রিয়ায় দু’মাস অন্তর শুমার করলে কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাসের সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Advertisement