আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে তৃণমূল সরকারের দুই জনমুখী প্রকল্পে বেসামাল বিজেপি। রাজ্য বিধানসভায় সদ্য পেশ হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেটে একদিকে যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে তেমনই রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখে চালু হয়েছে যুবসাথী প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই দুই সামাজিক প্রকল্প ভোটের লড়াইয়ে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে বিজেপিকে। পদ্ম শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেই বিষয়টি ধরা পড়ছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচনের আগে বাংলার সমাজজীবনে এই প্রকল্পগুলির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সমীক্ষা শুরু করেছে। সমীক্ষক দলের প্রতিনিধিরা প্রতিটি জেলায় উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ঘোষিত প্রকল্প নিয়ে মানুষের মতামত, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, জনমতের পরিবর্তন এবং ভোটের সিদ্ধান্তে তার প্রভাব, সব কিছুই খতিয়ে দেখছে এই সমীক্ষক দল। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কোথায় মানুষের ক্ষোভ সে বিষয়টিও চিহ্নিত করছে তারা। সেই সমীক্ষাতেই ধরা পড়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে এবং যুবসাথী প্রকল্প চালু করে এক মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সরকারের এই জোড়া ফলা ভোটের আগেই বিজেপিকে রিংয়ের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
Advertisement
সূত্রের খবর, বিজেপির ওই সমীক্ষক দলটি জনমত যাচাইয়ে দেখেছে, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই মহিলাদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। প্রতি মাসে এই আর্থিক সহায়তা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে তাঁদের বড় ভরসা বলে জানিয়েছেন মহিলারা। অন্যদিকে যুব সম্প্রদায়ের প্রায় সকলেই জানিয়েছেন, যুবসাথী প্রকল্পের মাসিক ভাতা তাঁদের পড়াশোনা চালানো ও চাকরির প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা নেবে।
Advertisement
ওই সমীক্ষা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই বিজেপি নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে হচ্ছে বলে খবর। কীভাবে বা কোনও বিষয়গুলিকে সামনে রেখে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তারা প্রচার চালাবে তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই মূহূর্তে মমতা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো উন্নয়নের কোনও বিকল্প মডেল বিজেপির কাছে নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপি তথা স্বংয় প্রধানমন্ত্রী এতদিন এই প্রকল্পগুলিকে ‘ফ্রি স্কিম’ রা রেউড়ি বলে কটাক্ষ করতেন। কিন্তু বাস্তবে যে এগুলির পিছনে বিপুল জনসমর্থন রয়েছে সেটা তাঁরা এখন স্পষ্ট বুঝতে পারছেন। পদ্ম শিবিরের নেতাদের আশঙ্কা, মহিলা ও যুব ভোটারদের ভোটই এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। তাঁরা নিশ্চিত, মহিলা ও যুব ভোটারদের ভোটের প্রায় সবটাই যাবে তৃণমূলের পক্ষে। যা ভোটের ময়দানে তাঁদের আগেই অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Advertisement



