• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে টাটা সন্সে সংঘাত প্রকাশ্যে

এই বিষয়ে টাটা ট্রাস্টস সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের আইনি পরামর্শ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে

চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে টাটা সন্সে সংঘাত প্রকাশ্যে

Chandrashekharan Photo-ANI

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের তৃতীয় দফার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রকাশ্যে এল টাটা গোষ্ঠীর অন্দরের মতবিরোধ। বৃহস্পতিবার প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর চন্দ্রশেখরনকে আরও ৫ বছর চেয়ারম্যান পদে রাখার প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ করেছে টাটা সন্সের পরিচালন পর্ষদ। কিন্তু টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনে এই পুনর্নিয়োগ হয়নি এবং সিদ্ধান্তটি ‘আইনত অকার্যকর’।

চন্দ্রশেখরনের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। গত মাসেই তিনি জানিয়েছিলেন, মেয়াদ শেষ হলে আর চেয়ারম্যান পদে থাকবেন না। কিন্তু বৃহস্পতিবার টাটা সন্সের নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির প্রস্তাবের পর বোর্ড তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে। সেই অনুরোধ মেনে নেন চন্দ্রশেখরন। তাঁর আরও ৫ বছরের জন্য দায়িত্বে থাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে টাটা ট্রাস্টসের দুই মনোনীত পরিচালককে ঘিরে প্রশ্ন। টাটা সন্সে টাটা ট্রাস্টস এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ট্রাস্টগুলির প্রায় ৬৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। বোর্ডে ট্রাস্টের দুই প্রতিনিধি নোয়েল টাটা এবং ভেনু শ্রীনিবাসন। বৃহস্পতিবার নোয়েল চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দেন। অন্যদিকে, ভেনু প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তবে ‘স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট’ দাবি করেছে, ভেনু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ড বৈঠকে যোগ দেওয়ার বৈধ অনুমোদন পাননি।

চন্দ্রশেখরন নিজের নিয়োগের ক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। নোয়েল ও ভেনুর ভোটে মতবিরোধ হওয়ায় বৈঠকের দায়িত্বে থাকা নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির চেয়ারম্যান তথা স্বাধীন পরিচালক হরিশ মানওয়ানি কাস্টিং ভোট দিয়ে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। এখানেই আপত্তি নোয়েল শিবিরের। তাদের বক্তব্য, ট্রাস্টের মনোনীত পরিচালকদের সম্মতি ছাড়া কমিটির চেয়ারম্যান এই কাস্টিং ভোট প্রয়োগ করতে পারেন না।

এই বিষয়ে টাটা ট্রাস্টস সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের আইনি পরামর্শ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মত, টাটা ট্রাস্টের মনোনীত পরিচালকদের সম্মতি বোর্ডে যোগদানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্ত। ভোট সমান হলে কাস্টিং ভোট ব্যবহার করা গেলেও ট্রাস্টের নিজস্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়মকে তা খারিজ করতে পারে না।
চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে এই টানাপোড়েন অবশ্য টাটা গোষ্ঠীর অন্দরের একমাত্র মতবিরোধ নয়। টাটা ট্রাস্টস ও টাটা সন্সের মধ্যে আরও বহু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে চেয়ারম্যানের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখন শুধু বোর্ডের ভোটে থেমে থাকবে, নাকি তা আরও বড় আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াবে, সেটাই নজরে।