• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

এআইএফ ও এফপিআই-এর প্রকৃত মালিকদের পরিচয় প্রকাশের জন্য মহুয়া মৈত্রের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা এআইএফ এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী বা এফপিআইয়ের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকদের পরিচয় ও বিনিয়োগের তথ্য জনসমক্ষে

এআইএফ ও এফপিআই-এর প্রকৃত মালিকদের পরিচয় প্রকাশের  জন্য মহুয়া মৈত্রের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

MP Mohua Maitra Photo-ANI

বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা এআইএফ এবং বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী বা এফপিআইয়ের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকদের পরিচয় ও বিনিয়োগের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের করা জনস্বার্থ মামলায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানায়, বর্তমান আইনে এই তথ্য প্রকাশের জন্য সিকিওরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া তথা সেবিকে নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে নতুন আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন হলে তা সংসদে আলোচনা করে আনা যেতে পারে বলে মহুয়াকে পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চের বক্তব্য, কোনও বিষয়ে আইন থাকলে তা কার্যকর করার নির্দেশ আদালত দিতে পারে। কিন্তু আইনে সংস্থান না থাকলে নতুন করে বাধ্যবাধকতা তৈরির নির্দেশ দেওয়া যায় না। শুনানির সময়ে বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, বিষয়টি সংসদে উত্থাপন না করে মহুয়া কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মহুয়ার হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর যুক্তি, এআইএফ ও এফপিআইয়ের মাধ্যমে কারা বিনিয়োগ করছেন, সেই তথ্য প্রকাশ্যে না থাকলে আর্থিক বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন। শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

মহুয়ার আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এআইএফ ও এফপিআইয়ের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকদের পরিচয় এবং তাদের পোর্টফোলিওয় থাকা বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হোক। এর ফলে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়। সেবি এআইএফ ও এফপিআইয়ের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করলেও, তাদের প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত সব তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়েই ছিল মামলার মূল প্রশ্ন।

এআইএফ হল এমন বিনিয়োগ তহবিল, যা প্রচলিত শেয়ার বা ঋণপত্রের বাইরে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে অর্থ লগ্নি করে। ব্যাঙ্ক ঋণ পেতে সমস্যায় পড়া কর্পোরেট সংস্থাগুলির অর্থের জোগান দিতেও এই তহবিলের ভূমিকা বাড়ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এআইএফের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ বছরে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছে। দেশে এই ধরনের তহবিলে অর্থের পরিমাণ প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এফপিআইয়ের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডে অর্থ লগ্নি করতে পারেন। এই দুই ক্ষেত্রেই প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকদের পরিচয় প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল মহুয়ার আবেদন।