এজলাসের ভিতরের ভিডিও কেটে-ছেঁটে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার দিন শেষ হচ্ছে। শুক্রবার এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং (audio-video recording) আর কারও অনুমতি ছাড়া তোলা, সম্পাদনা করা কিংবা যে কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে পোস্ট করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি
সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্টের লাইভস্ট্রিমড (live-streamed) শুনানির ভিডিও অংশবিশেষ কেটে নিয়ে প্রেক্ষাপট ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল আদালতের কাছে। শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ সিং জানান, ভিডিওর সঙ্গে মনগড়া বয়ান জুড়ে দেওয়া কিংবা আংশিক ক্লিপ ছড়িয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার মর্যাদা নষ্ট করার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও এই বিষয়ে দ্রুত একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এরই প্রেক্ষিতে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সব আদালতে সব সময়ের জন্য লাইভস্ট্রিমিং চালু রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
নির্দেশে ঠিক কী বলা হয়েছে
আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বা সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের (Registrar General) পূর্বানুমতি ছাড়া বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের লাইভস্ট্রিমড ভিডিওর কোনও অংশ পোস্ট, রিপোস্ট, এক্সট্র্যাক্ট, সম্পাদনা, প্রচার কিংবা রোজগারের কাজে ব্যবহার (monetisation) করা যাবে না। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক প্রতিবেদনের কাজে এই নির্দেশের কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, করোনার সময় থেকে সুপ্রিম কোর্টের শুনানি অনলাইনে দেখার সুযোগ চালু হয়েছিল, কিন্তু সেই লিঙ্ক প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ায় মামলার সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই এমন মানুষও শুনানি দেখতে ও রেকর্ড করতে শুরু করেন।
কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই রায়
এই ধরনের বিধিনিষেধের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বাংলার রাজনীতিতেও একাধিকবার সামনে এসেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির (ED) দায়ের করা মামলার শুনানির ভিডিও অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, এমনকি শুনানিতেই এক পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ তুলেছিলেন যে আদালতের কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার (social media weapon) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
লঙ্ঘন হলে কী হতে পারে
আদালত অবমাননার (contempt of court) সম্ভাবনা থেকে শুরু করে আইনি পদক্ষেপ, সবই এই নির্দেশ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে বলে আইনজীবী মহলের অভিমত। কেন্দ্র ও অন্যান্য পক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত পিটিশনে জবাব চাওয়া হয়েছে, ফলে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন এবং আগামী শুনানিতে আরও স্পষ্ট নির্দেশিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।




