ধুলো-ধোঁয়া থেকে ট্র্যাফিক জ্যামে আর নাকাল হতে হবে না নিত্যযাত্রীদের। আর তার জন্য বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। নিত্যযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে কলকাতার বুকে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন পরিবহণমন্ত্রী। গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার মেট্রো চালুর পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার ওয়াটার ট্যাক্সি পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গঙ্গার আরও একাধিক জায়গার সঙ্গে যোগাযোগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্জুন সিং। এই নিয়ে এখন নিত্যযাত্রীদের মধ্যে জোর কৌতূহল শুরু হয়েছে।
রেল পরিষেবার উন্নতি হলেও আরামদায়ক যাত্রা জলপথে হয় বলে অনেকে মনে করেন। বাস পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মেট্রো সম্প্রসারণ হওয়ায় অনেকেই তাতে যাত্রা করে থাকেন। কিন্তু সব রুটে তো মেট্রো পরিষেবা নেই। সেই জায়গায় জলপথে পরিবহণে নয়া ভাবনা নিয়ে আসা হয়েছে। শুক্রবার উল্টোরথের দিন ভাটপাড়ার গোলঘরের খুঁটি পুজোর উদ্বোধনে এসে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, ‘ট্র্যাফিকের চাপ কমাতে জলপথকে গুরুত্ব দিতেই হবে। দুর্গাপুজোর আগেই ৫০০ সরকারি বাস চালু করা হবে। অনেক সময়ে যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট পান না। উন্নত বাস পরিষেবা থাকলে যাত্রীরা সহজেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। তাই সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।’
বাবুঘাট থেকে মেটিয়াবুরুজ পর্যন্ত ওয়াটার ট্যাক্সি চলবে। শুধু ওয়াটার ট্যাক্সিই নয়, গঙ্গাবক্ষে দূরপাল্লার ভেসেলও চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী। পরিবেশ দূষণ কমাতেও জলপথকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। শুক্রবার উলটো রথের দিন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে খুঁটিপুজোর যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন সিং। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের দাবি, ‘আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দেড় হাজার সরকারি বাস চালু হয়ে যাবে। দুর্গাপুজোর আগে ৫০০ বাস নামাব আমরা। ওয়াটার ট্যাক্সি মেটিয়াবুরুজ থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত চলতে পারে। আবার ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত চলবে। হাওড়া, বালি, বেলুড়েও যাবে।’
তাছাড়া ওয়াটার মেট্রো দেশের মধ্যে একমাত্র কোচিতে চলাচল করে। কোচির মতো পশ্চিমবঙ্গেও অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড বোট ব্যবহার করা হবে। যা কিনা পরিবেশবান্ধবও। যাত্রীরা এই যানের মাধ্যমে দ্রুত গঙ্গাবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। শুধু ওয়াটার মেট্রোই নয়। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় সেজে উঠেছে গঙ্গাপারও। প্রায় ৫০টি জেটিকে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। আড়াইশো কোটি টাকা ব্যয়ে নামানো হবে ১৩টি ই-ভেসেল। এমনকী ২২টি ভেসেল তৈরি করা হয়েছে, যা শীঘ্রই গঙ্গাবঙ্গে নামবে বলে সূত্রের খবর।




