অন্যদিকে এশিয়ান-আফ্রিকার চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রির উপদেষ্টা পদেও নির্বাচিত হয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা সৌরভ মুখার্জী। রাষ্ট্রপুঞ্জ স্বীকৃত ইকোসক-এর পরামর্শদাতা হিসেবে উন্নয়ন, সবুজায়ন, এবং মহিলাদের জীবিকা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন তিনি। তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়া ছেড়ে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলার উন্নয়নে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন এই তরুণ, মেধাবী যুবক। Advertisement
সৌরভ মুখার্জী সুন্দরবন সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কাজের জন্য তাঁকে পঞ্চদশতম পিস আর্চিভার্স ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ দেওয়া হবে। নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় আগামী ৮ নভেম্বর এই সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান হবে। আফ্রিকান ইউনিয়নের তরফে দেওয়া এই পুরস্কার শান্তি প্রতিষ্ঠা, সমাজের রূপান্তর এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।
সুন্দরবনের উন্নয়নে নিজেকে ব্রতী করেছেন সৌরভ মুখার্জী। মৎস্যজীবীদের জীবনের মান উন্নয়নে সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁরই উদ্যোগে সুন্দরবনের গ্রামগুলিতে সোলার লাইট বসানো হয়েছে।ব্যাপক হারে রোপণ করা হয়েছে ম্যাংগ্রোভ গাছ, যাতে মাটির ক্ষয় রোধ করা যায়। সুন্দরবনের দ্বীপের বাসিন্দাদের একাধিক দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তরুণ এই প্রতিভাবান তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিগ্রি অর্জন করে আমেরিকার একটি সফটওয়্যার সংস্থায় চাকরি পেয়েছিলেন। সৃজনশীল কাজের তাগিদে সেই পেশা ছেড়ে দিয়ে গড়ে তোলেন কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ নামে একটি সংগঠন। সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ, বিশেষ করে অনুন্নত অঞ্চলের মহিলাদের জীবনযাত্রায় আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে কাজ শুরু করেন তিনি। গ্রামের চিরাচরিত জীবিকার বিকাশ ঘটাতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে সৌরভের টিম। সংগঠনের কর্মীরা বিভিন্ন গ্রামে, বিশেষ করে আদিবাসী এলাকায় কৃষি, ফলের বাগান, মাছ চাষ, মুরগি পালনের পদ্ধতি আর উন্নত করতে কাজ করে চলেছেন। শুধু উন্নয়নই নয়, সৌরভের সংগঠন গ্রামের মানুষের পরিশ্রমের সেইসব সম্পদ বিপণনেও সাহায্য করে থাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকে ৩৫৬ জন প্রান্তিক মহিলাকে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে সৌরভের সংগঠন।
সুন্দরবনে প্রাণ হাতে করে বসবাস করে থাকেন সেখানকার বাসিন্দারা। জলে-স্থলে তাঁদের নিত্য মোকাবিলা করতে হয় বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মোকাবিলা রোধ করতে এবং প্রাণহানি রুখতে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ অঞ্চলে বন দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ।
গ্রামাঞ্চলে নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করাও লক্ষ্য রয়েছে এই সংগঠনের। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার বিখ্যাত পটচিত্র যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য শিল্পীদের অনুপ্রেরণাও জুগিয়ে চলেছেন সৌরভ ও তাঁর টিম। তাঁদের কাজের পরিধি এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বিহার ও ওড়িশাতেও। কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ তিন রাজ্যের মোট ২ হাজার ১১৫ জন দরিদ্র শিল্পীকে নিয়ে কাজ করছে। গত ৩ বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে আর্ট কার্নিভাল, যে উৎসবে গত বছর অংশ নিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া, ইরান, আলবানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, বাংলাদেশের চিত্রশিল্পীরা।
কঠিন বর্জ্যের পুনর্নবীকরণে দরিদ্র মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিকল্প জীবিকার সন্ধান দিয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মানুষকে। পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য এনকেডিএ এবং হিডকোর সহযোগিতায় গত বছর ইকো পার্কে প্রদর্শিতও হয়েছে।
‘পিস অ্যাচিভার্স ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ এর পাশাপাশি এশিয়ান-আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সৌরভ । এক্ষেত্রেও তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি এই পদে নিযুক্ত হলেন। এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ও আর্থিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থাটির।