রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বীর সাভারকরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে গিয়ে সাভারকরের দৌহিত্র সাত্যকি সাভারকর সব অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন যে সেলুলার জেলে বন্দি থাকার সময় বীর সাভারকর ব্রিটিশ সরকারের কাছে পাঁচবার মুচলেকা জমা দিয়েছিলেন। যদিও তিনি এ-ও জানান যে শুধুমাত্র সাভারকরই নন, সেই সময় বহু রাজনৈতিক বন্দিই এমন আবেদন করেছিলেন। ফলে এই ঘটনাকে এককভাবে সাভারকরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা ঠিক নয় বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবর্তক ছিলেন সাভারকর। তবে সাত্যকি সাভারকর এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, সাভারকর এই তত্ত্বের উদ্ভাবক ছিলেন না। তাঁর মতে, স্যার সইদ আহমেদ খানই প্রথম এই ধারণা সামনে আনেন। সাভারকর কেবল রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন।
Advertisement
আদালতে সাত্যকি বলেন,‘একথা সত্যি যে, সেলুলার জেলে বন্দি থাকাকালীন পাঁচবার ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন বীর সাভারকর। তবে শুধু তিনি নন, বহু রাজনৈতিক বন্দিই ব্রিটিশ সরকারের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছিলেন।‘ এটাও মেনে নেন যে সাভারকর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে এর পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তরুণ ভারতীয়দের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ভারতের নিজস্ব সেনাবাহিনী গড়ে তোলা যায়।
Advertisement
সবশেষে, গরুকে দেবতা হিসেবে মানার প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট করেন যে সাভারকর গরুকে ভগবান হিসেবে দেখতেন না, বরং একটি উপকারী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করতেন। এভাবে দেখা যায়, রাহুল গান্ধীর তোলা অধিকাংশ অভিযোগই সাত্যকি আদালতে স্বীকার করেছেন, শুধু গরু সম্পর্কিত বিষয়টি ছাড়া।
Advertisement



