বঙ্গে তাপপ্রবাহ যেমন চড়ছে, তেমনই ভোটের মুখে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে একাধিক জনসভা থেকে ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুল এদিন হুগলির শ্রীরামপুর, কলকাতার শহিদ মিনার চত্বর এবং মেটিয়াব্রুজে তিনটি সভা করেন। তিন সভা থেকেই বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলকেই একযোগে নিশানা করেন তিনি। পাশাপাশি বাম আমলে শিল্পের বেহাল পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
শ্রীরামপুরের সভা থেকেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল। তাঁর অভিযোগ, বাংলার জন্য কিছুই করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গোটা দেশে বিজেপিকে রুখতে পারে একমাত্র কংগ্রেস। তাঁর কথায়, ‘মমতাজির দল মোদীজিকে হারাতে পারবে না। বিজেপির সঙ্গে একমাত্র কংগ্রেসই প্রকৃত লড়াই করতে পারে।’ একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব, শিল্পের বেহাল দশা এবং দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।
Advertisement
রাহুলের অভিযোগ, ৫ বছর আগে তৃণমূল চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা পূরণ করতে পারেনি। সে কারণেই ৮৪ লক্ষ বেকার যুবক ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। এটাই বাংলার বর্তমান ছবি। আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রাহুলের কটাক্ষ, বাংলায় মহিলারা সুরক্ষিত ও নিরাপদ নন।
Advertisement
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাঁর দাবি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরেই বাংলায় বিজেপির জায়গা তৈরি হচ্ছে। শিল্প প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাহুল। কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘একসময় এই বাংলাই ছিল শিল্পের কেন্দ্র। বাংলার শিল্প ছিল রাজ্য তথা দেশের গর্ব। কিন্তু প্রথমে বামপন্থীরা সেই শিল্প শেষ করেছে। পরে মমতাজি তা ধ্বংস করে দিয়েছেন। কর্মসংস্থানের বদলে বাংলায় এখন দলীয়করণ করতে ব্যস্ত তৃণমূল।’
কলকাতার শহিদ মিনারের সভায় রাহুল সমালোচনার সুর আরও চড়ান। তিনি বলেন, ‘দেশে আজ দুই মতাদর্শের লড়াই চলছে। একদিকে কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ ভূমিকা অন্যদিকে, বিজেপি-আরএসএসের বিভাজনের রাজনীতি।’ রাহুলের অভিযোগ, মোদী সরকারের নোটবন্দি ও জিএসটির মতো ভুল সিদ্ধান্তে ছোট ব্যবসা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কংগ্রেস সাংসদের দাবি, বাংলার মানুষ অতীতে দেশকে পথ দেখিয়েছেন। তাই বাংলার মানুষই পারেন আবারও পরিবর্তনের বার্তা দিতে। শহিদ মিনারের সভা থেকে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে মমতার তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। একমাত্র কংগ্রেসই পারে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সে কারণে তাঁর লোকসভার সদস্যপদ ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। তাঁর বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা করেছে। কিন্তু মমতাজির বিরুদ্ধে কটা মামলা করেছেন মোদীজি? টানা পাঁচ দিন ধরে তাঁকে ৫৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়েছে। কিন্তু মমতাজিকে কত ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে? দুর্নীতিতে ডুবে থাকলেও তাই মমতাজির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ, তিনি বিজেপির সঙ্গে লড়াই করেন না।
মেটিয়াব্রুজের সভায় সংখ্যালঘু ও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যাকে সামনে আনেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘বাংলায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত। কেন্দ্রের মোদী ও রাজ্যের তৃণমূল দুই সরকারই মানুষের সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ।’ সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়ের বার্তা দিয়ে রাহুল বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে নয়, মানুষের অধিকার ফিরিয়েই রাজনীতি করতে হবে।’ তিন সভা মিলিয়ে রাহুল এদিন বাংলার মাটিতে বিজেপি ও তৃণমূলের মাঝে নিজেদের জায়গা পুনর্দখলের বার্তাই দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Advertisement



