• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 13 July, 2026

আসামে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা ২৭ জনকে স্বস্তি, নতুন করে শুনানির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চের মতে, নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই ন্যায্য, স্বচ্ছ আইনসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত হতে হবে

আসামে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা ২৭ জনকে স্বস্তি, নতুন করে শুনানির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: AI নির্মিত

আসামে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ২৭ জনের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আপাতত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে গুয়াহাটি হাইকোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাগুলি নতুন করে শুনানির জন্য ফের ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চের মতে, নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই ন্যায্য, স্বচ্ছ আইনসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।

 

এই ২৭ জনের মধ্যে সাবিত্রী দে, আজবাহার আলী, মহম্মদ আকবর আলী, আবেদা খাতুন ও আনোয়ারা খাতুন-সহ কয়েকজনের অভিযোগ ছিল, সরকারি নথিতে নামের বানানে সামান্য ভুল, টাইপিংয়ের ত্রুটি বা পুরনো ভোটার তালিকার ছোটখাটো অসঙ্গতির কারণেই তাঁদের ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

অথচ নিজেদের ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে তাঁরা ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকা, জমির নথি, পারিবারিক বংশ তালিকা-সহ একাধিক প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রথমে গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্টে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশই বহাল রাখা হয়। এর পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

 

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব কোনও সাধারণ প্রশাসনিক বিষয় নয়, এর সঙ্গে সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। তাই শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে এবং সমস্ত নথি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে হবে।

 

তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সরকারের দায়িত্ব হল নিশ্চিত করা যে, যাঁরা আইনত ভারতের নাগরিক নন, তাঁরা যেন মিথ্যা দাবি, জাল নথি বা আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্ব না পান। বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার দায় আবেদনকারীদেরই থাকবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং আইন মেনে হবে।

 

শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, এই রায়ে আবেদনকারীরা ভারতীয় নাগরিক কি না সে বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁরা যে নথি জমা দিয়েছেন, সেগুলির সত্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও আদালত কোনও মত প্রকাশ করেনি। এই সমস্ত বিষয় নতুন করে স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। আগের ট্রাইব্যুনাল বা গুয়াহাটি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নতুন শুনানিকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না।

 

আদালত জানিয়েছে, মামলাগুলি ফের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অর্থ এই নয় যে, আবেদনকারীরা কোনও বিশেষ সুবিধে পাচ্ছেন। তাঁরা যদি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি’ হিসেবে কোনও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা যাবে না।

 

আসামে এনআরসি, ডি-ভোটার এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় স্পষ্ট করে দিল, নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নয়, ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।