বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহে দায়িত্ব পালন করা সাহসী সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল দেশের প্রতিরক্ষা দপ্তর। সিয়াচেন দিবস উপলক্ষে সোমবার অপারেশন মেঘদূতের বীর শহিদদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতীয় সেনা গোপন অভিযানে অপারেশন মেঘদূত শুরু করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিয়াচেন হিমবাহের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই ঐতিহাসিক অভিযানের স্মরণেই প্রতি বছর এই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যেও যেসব সেনা সিয়াচেনের বরফঢাকা দুর্গম অঞ্চলে দেশরক্ষা করছেন, তাঁদের সাহস ও দায়িত্ববোধ অনন্য। একইসঙ্গে যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সেনার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষ থেকেও এক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে যেসব সেনা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়। সিয়াচেনের মতো কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা এবং দায়িত্ব পালন করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
Advertisement
অপারেশন মেঘদূতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে একাধিক উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই সময় উত্তর কমান্ড থেকে পুরো অভিযানের ওপর নজরদারি চালানো হয়। পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে ছিল সুপরিকল্পিত কৌশল। এই অভিযানের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর জেনারেল অমরজিৎ সিং। তাঁর নেতৃত্বে এই সাহসী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। জানা যায়, বিশেষ কৌশলে এই অভিযান চালিয়ে শত্রুপক্ষকে চমকে দেওয়া হয়েছিল।
Advertisement
এই অভিযানের দিনটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ তাৎপর্য। বৈশাখীর দিনকে গুরুত্ব দিয়ে এই অভিযান শুরু করা হয়, যা প্রতিপক্ষের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ফলে ভারতীয় সেনা কৌশলগতভাবে এগিয়ে যায়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন মেঘদূত শুধু সামরিক সাফল্য নয়, এটি দেশের সীমান্ত সুরক্ষার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অভিযানের ফলে সিয়াচেন অঞ্চলে ভারতের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হয় এবং উত্তর সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হয়।
Advertisement



