• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পরও রহস্য অমীমাংসিত, চূড়ান্ত রিপোর্টে আরও দেরি

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বড় বিমান দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা। তবে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত একটি অন্তর্বর্তী বা স্টেটাস রিপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে

ফাইল চিত্র


আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকাশিত হয়নি চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট। ২০২৫-এর ১২ জুন, অর্থাৎ ঠিক একবছর আগে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি। সেই দুর্ঘটনায় যাত্রী, বিমানকর্মী এবং ভূপৃষ্ঠে থাকা মানুষ-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে এই ঘটনাকেও চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা এএআইবি। তাদের সঙ্গে কাজ করছে এয়ার ইন্ডিয়া, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক, মার্কিন জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ড বা এনটিএসবি, বোয়িং এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বড় বিমান দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা। তবে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আপাতত একটি অন্তর্বর্তী বা স্টেটাস রিপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারীদের মতে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানেটির ইঞ্জিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি। সেই কারণেই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশে অন্তত আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছিল, বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ককপিটে থাকা ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ দু’টি ‘রান’ থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে গিয়েছিল। ফলে ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং বিমানটি ভেঙে পড়ে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে দুই পাইলটের কথোপকথনও ধরা পড়েছিল। সেখানে এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করেন, কেন জ্বালানি সুইচ বন্ধ করা হল। উত্তরে বলা হয়, তিনি তা করেননি। তবে কথোপকথনে কার কণ্ঠ কোনটি ছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করলেও বহু পরিবার এখনও সেই অর্থ গ্রহণ করেননি। তাঁদের বক্তব্য, চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি বিমান সংস্থার গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তাহলে আইনি পথে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সময়সীমা নেই এবং কোনও পরিবারকেই চাপ দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে তদন্তকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক রয়েছে। পাইলট সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, মৃত কমান্ডার পাইলট সুমিত সাবরেওয়ালকে দায়ী করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক সমস্যার সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঘটনার দিন বিমানে ‘ইলেকট্রিক ফেলিওর’ হয়েছিল বলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বোয়িংয়ের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য এতবড় দুর্ঘটনা সেটা প্রমানিত হলে চাপ বাড়বে আমেরিকারই। ক্যাপটেন সুমিতের বাবাও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অকারণে তাঁর মৃত ছেলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। যদিও তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং কোনও তথ্যই গোপন রাখা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট মহল। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তদন্তের সমস্ত ফলাফল জনসমক্ষে আনা হবে।