• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 4 August, 2026

মোদী-শাহের সঙ্গে একসারিতে সুদীপ-কাকলি, গরহাজির তিন সাংসদকে নিয়ে গুঞ্জন

এখন কোনটা সত্যি এবং কোনটা মিথ্যে তা বোঝা যাচ্ছে না। তাই এই তিন সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে তুমুল গুঞ্জন তৈরি হয়েছে

মোদী-শাহের সঙ্গে একসারিতে সুদীপ-কাকলি, গরহাজির তিন সাংসদকে নিয়ে গুঞ্জন

Sudip Banerjee NCPI MP Photo-SNS

এনডিএ-র হাইপ্রোফাইল বৈঠকে দেখা গেল একসারিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার। এঁরা এনসিপিআই সাংসদ এখন। সেখানে দাঁড়িয়ে ‘সর্বাঙ্গীন একতা’র কথা বলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, কোথায় একতা? কারণ এনসিপিআইয়ের তিন সাংসদ অনুপস্থিত রইলেন। মঙ্গলবারের বৈঠক শুরু হতেই দেখা গেল, ২০ জন সাংসদের দলের শীর্ষনেতার দাবির ঠিক বিপরীতে গিয়ে বৈঠকে উধাও তিন হেভিওয়েট মুখ— মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। তবে কি ঐক্যের বার্তার আড়ালে গড়ে উঠেছে অনৈক্য? উঠছে প্রশ্ন।

এনসিপিআই দলের এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে যদি ভাঙন ধরে তাহলে দলবিরোধী আইনে এঁদের সাংসদ পদ খারিজ হবে। যা নিয়ে বেশ চাপে আছেন সাংসদরা। তবে এদিন নয়াদিল্লির সংসদ ভবন চত্বরে শাসক-জোটের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই দাবি করেন, ‘এনসিপিআই-তে সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’ সত্যিই কি তাই? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কারণ সৌগত রায় কদিন আগে সংসদ চত্বরে আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানকে পাশে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা তো চাই সবাই ফিরে আসুন।’ আর গতকাল কালীঘাট তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও দাবি করেন, ‘ওদিকে যাওয়া অন্তত ৬ জন সাংসদ এবং বেশ কয়েকজন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন।’

এখন কোনটা সত্যি এবং কোনটা মিথ্যে তা বোঝা যাচ্ছে না। তাই এই তিন সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে তুমুল গুঞ্জন তৈরি হয়েছে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে। এই তিন সাংসদ কি কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন? এমন প্রশ্নও এখন উঠতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার বাদল অধিবেশন শুরু হলেও এনডিএ-র বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লোকসভায় এনসিপিআই-এর মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার। তিনি বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঠিক পাশেই। আর এদিন সুদীপ নিজে ফিরে মোদী-শাহের সঙ্গে একসারিতে আসন গ্রহণ করলেন। সামনের সারির অন্য প্রান্তে ছিলেন কাকলি এবং তাঁদের ঠিক পিছনের আসনে সাংসদ শতাব্দী রায়।

তাছাড়া মঙ্গলবারই নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন সুদীপ, কাকলি-সহ এনসিপিআই-এর অন্য সাংসদরা। সেখানে এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সাংসদ পদ খারিজের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে বিজেপিতে ঢুকে যেতে পারেন তাঁরা সেই বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। এনডিএ-তে এখনও স্বীকৃতি পায়নি এনসিপিআই। নির্বাচন কমিশন তাঁদের পৃথক দলের স্বীকৃতি দিলেও লোকসভা টিভি-তে দেখানো হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। এই পরিস্থিতি কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে রফাসূত্র এখনও অধরা বলেই সূত্রের খবর।