বাদল অধিবেশন শুরুর আগে রবিবারের সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করলেন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সংগঠন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ করার প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট হয়। যদিও কিছুক্ষণ পরে তাঁরা আবার ওই বৈঠকে যোগ দেন। যদিও এটি প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল। ওয়াকআউটের পর সংবাদমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য জানান মহুয়া-সহ বিরোধীরা। সুতরাং দিনের শুরুতেই রাজধানীর রাজনীতিতে টানটান লড়াই দেখা যায়।
এদিকে কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির জোটসঙ্গী হয়ে কাজ করবেন বলেও ঘোষণা করেছেন তাঁরা। দলত্যাগ করার কারণে তাঁদের সাংসদপদ বাতিল চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ওই দলত্যাগী সাংসদদের সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। এনসিপিআই প্রতিনিধি হিসাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ায় এনসিপিআই-কে কার্যত পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতি এবং গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। যদিও স্পিকার এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই সাংসদ হিসাবে তৃণমূলের ওই বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দেননি।
#WATCH | Delhi: All-party meeting underway at the Parliament Annexe building ahead of the Monsoon session of Parliament that begins tomorrow, 20th July. pic.twitter.com/oZwogND8bU
— ANI (@ANI) July 19, 2026
অন্যদিকে লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন না দেওয়া সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হয়েছে। যা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সোমবার থেকে লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে রবিবার সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট বিরোধীদের নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনার পর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘আমাদের আপত্তি হলো, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নামই নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হয়েছে।’ শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে লোকসভায় পৃথক আসনে বসার ব্যবস্থার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। স্পিকার সেটা মেনে নিয়েছেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই প্রতীকী ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা।
তাছাড়া মহুয়াদের এই প্রতীকী ওয়াকআউটে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিএম, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, শিবসেনা (উদ্ধব) এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিনিধিরা। প্রতীকী ওয়াকআউট থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্রর তোপ, ‘আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-সহ গোটা বিরোধী জোট সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। কারণ তথাকথিত এনসিপিআই একটি অস্বীকৃত দল। সংসদের টেবিল অফিসের তালিকায় এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, কিন্তু এখনও স্পিকার তা অনুমোদন করেননি। কীসের ভিত্তিতে এই বিদ্রোহীদের সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হলো? ওঁরা তো তৃণমূলে নেই।’




