রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। তারপর থেকে রোজই বিধায়ক সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে এবার শুরু হতে চলেছে বিধানসভার অধিবেশন। দুদিন পরই তা শুরু হবে। তার আগে, মঙ্গলবার বিধানসভায় ডাকা হয়েছে কার্য উপদেষ্টা কমিটি বা বিএ কমিটি এবং সর্বদলীয় বৈঠক। আর তাতে যা ঘটল সেটা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে ঘাসফুল শিবির এখন দু-ভাগে বিভক্ত। এক, মমতাপন্থী তৃণমূল। দুই, ঋতব্রত তৃণমূল। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে সকলের সই করা চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার স্পিকারকে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ওই চিঠিতে থাকা বেশ কয়েকটি সই জাল। আর তারপরই তা তদন্তের জন্য চলে যায় সিআইডির হাতে। এরপরই বিধায়ক সংখ্যা নিয়ে চিঠি জমা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহা। ঋতব্রত হয়ে যান বিরোধী দলনেতা। আর এবার তাঁদের গোষ্ঠীকেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাকা হলো। ডাক পেলেন না তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আমন্ত্রণ পাননি কুণাল ঘোষরা।
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। এবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অথচ কুণাল ঘোষ বেলেঘাটার বিধায়ক। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ১০ বারের বিধায়ক। কিন্তু এমন ঘটনা নিয়ে বিধানসভার অন্দরে আলোচনা হলেও তাঁদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তাছাড়া এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে হুমায়ুন কবীর, নওশাদ সিদ্দিকী এবং মুস্তাফিজুর রহমানদের। তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দাবি জানিয়েছিলেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত। এই সংখ্যা বেড়ে এখন হয়েছে ৬৫ বলে দাবি ঋতব্রতর। এমন পরিস্থিতিতে মমতাপন্থী তৃণমূল কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এমনকী ঋতব্রত গোষ্ঠীতে রয়েছেন জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামানদের মতো নেতানেত্রীরা। যাঁরা জোড়াফুলের টিকিটে জিতেছিলেন। এখন পৃথকভাবে নিজেদের তুলে ধরা হয়েছে। আর নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করা হয়েছে। আর বিধানসভা সচিবালয় সংখ্যার নিরিখে নতুন সমীকরণকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।




