• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 28 August, 2026

আকাশ থেকে মারণ আঘাত, বাঁচবে না শত্রুর একটাও ট্যাঙ্ক: ভারতীয় সেনার হাতে আসছে ভয়ঙ্কর জ্যাভেলিন

ভারতীয় সেনার জন্য আমেরিকা থেকে আসছে জাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল। কত টাকার চুক্তি, কীভাবে কাজ করে এই ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট অস্ত্র, সবিস্তার প্রতিবেদন।

আকাশ থেকে মারণ আঘাত, বাঁচবে না শত্রুর একটাও ট্যাঙ্ক: ভারতীয় সেনার হাতে আসছে ভয়ঙ্কর জ্যাভেলিন

Javelin Missile (Pic- X/@thenewsdrill)

শত্রুর ট্যাঙ্ক এখন আর কোনও বড় বিপদই নয়। আমেরিকার সঙ্গে সদ্য হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তির পর ভারতীয় সেনার হাতে আসতে চলেছে জাভলিন (Javelin) নামের একটি ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা রণাঙ্গনে মূর্তিমান ত্রাসের আরেক নাম।

মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনা এবং আমেরিকার একটি চুক্তিপত্রে সইসাবুদ হয়ে গিয়েছে। এই ধরনের চুক্তিকে বলা হয় লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্টেন্স (Letter of Offer and Acceptance) বা সংক্ষেপে এলওএ (LOA)। আমেরিকার বৈদেশিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রয় (Foreign Military Sales) প্রক্রিয়ার আওতায় এই চুক্তি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কত টাকার চুক্তি

চুক্তির প্রকৃত অঙ্ক নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগেই জানিয়েছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনতে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৪৫.৭ কোটি মার্কিন ডলার (USD 45.7 million), ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র এই চুক্তির কথা স্বীকার করলেও টাকার অঙ্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

ভারতের তরফে প্রাথমিকভাবে ১০০টি জাভেলিন রাউন্ড, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য একটি মিসাইল এবং ২৫টি কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (Command Launch Unit) চাওয়া হয়েছিল বলে আগের রিপোর্টে উঠে এসেছিল। প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

কেন ভয়ঙ্কর এই অস্ত্র

জাভেলিন মূলত একটি কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র (anti-tank guided missile) বা সংক্ষেপে এটিজিএম (ATGM)। এই অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ছোঁড়ো আর ভুলে যাও প্রযুক্তি (fire-and-forget)। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা স্থির করে ট্রিগার টেপার পরই সেনা জওয়ান সরে যেতে পারেন নিরাপদ আশ্রয়ে। মিসাইল নিজে থেকেই তার ইনফ্রারেড সেন্সরের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে থাকে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হল এর টপ-অ্যাটাক মোড (top-attack mode)। সাধারণত ট্যাঙ্কের সবচেয়ে পুরু বর্ম থাকে সামনের দিকে। জাভেলিন সেই পথে না গিয়ে সোজা আকাশে উঠে যায়, তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্যাঙ্কের একেবারে মাথার উপর, যেখানে বর্ম সবচেয়ে পাতলা। সুরক্ষা প্রাচীর সবথেকে কম। ফলে আধুনিকতম ট্যাঙ্কও এর হাত থেকে বাঁচতে পারে না। প্রয়োজনে সরাসরি আঘাত হানার (direct-attack) মোডও ব্যবহার করা যায়, বিশেষত বাঙ্কারের মতো লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর পাল্লা প্রায় আড়াই কিলোমিটার, লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট ব্যবহার করলে যা বেড়ে চার কিলোমিটারের বেশি হয়ে যায়। রয়েছে তাপ-সংবেদী ইমেজিং (thermal imaging) প্রযুক্তি, ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকার কিংবা কুয়াশাতেও শত্রুর অবস্থান স্পষ্ট বোঝা যায়। লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) এবং আরটিএক্স (RTX) নামের দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র।

সীমান্তে কেন জরুরি

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, লাদাখের মতো উঁচু ও দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে ভারতীয় সেনা। চিনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার আবহে এই ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। জাভেলিনের মতো অস্ত্র হাতে এলে পার্বত্য এলাকায় সেনার আত্মরক্ষার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে ভবিষ্যতের সহযোগিতার দরজা খুলে দেবে। সম্প্রতি বছরের গোড়ায় জাভেলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার (Javelin Joint Venture) এবং ভারতের ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (Bharat Dynamics Limited)-এর মধ্যে একটি সমঝোতাপত্রও সই হয়েছিল, যার মাধ্যমে ভারতের মাটিতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেক ইন ইন্ডিয়া (Make in India) নীতির আওতায় এই সহ-উৎপাদনের পথে হাঁটতে চাইছে দুই দেশই।

শুল্ক-জনিত টানাপড়েনে সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা দেখা দিলেও এই খবরের জেরে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতায় কোনও প্রভাব পড়েনি।