• facebook
  • twitter
Monday, 2 March, 2026

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান, তেল নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

দেশের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ঊর্ধমুখী। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।  এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ক্রমশ বাড়ছে।

সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’  জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালী এলাকায় অন্তত দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে এবং আরও একটি জাহাজের কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটানো হয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পথ দিয়ে কোনও জাহাজকে তারা যেতে দেবে না।

Advertisement

হরমুজ প্রণালী পশ্চিম এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জলপথ। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝের এই সরু প্রণালী দিয়ে আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। এই প্রণালীর একদিকে ইরান, অন্য দিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—এই সরু প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থানই তাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশ্বের রপ্তানিযোগ্য তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে অচলাবস্থা তৈরি হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা।

Advertisement

ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬.১৬ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য ৬,৯৬০.৮৩ টাকা।  যা আগের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, আমেরিকান বাজারেও দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেল প্রতি ৬৯.৬৭ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় দাম ৬,৩৬৭.৬৬ টাকা।এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের আমদানি ব্যয়ের উপর।

ভারতের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কুয়েত থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করে দিল্লি, যার বড় অংশই এই পথনির্ভর। যদিও কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, দেশে আপাতত কয়েক দিনের তেল মজুত রয়েছে, তাই স্বল্পমেয়াদে বড় সঙ্কটের আশঙ্কা নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ তৈরি হলে বিকল্প সরবরাহপথ ও উৎস খোঁজার প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement