আমেরিকা-নিবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দ্বারস্থ হলেন হায়দরাবাদের ২৫ বছরের যুবতী হানা আহমদ খান। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে তিনি গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মার্কিন প্রবাসী মহম্মদ জাইন উদ্দিনের সঙ্গে হানার বিয়ে হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী শিকাগোয় ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছরেও স্ত্রীকে আমেরিকায় নিয়ে যাননি। অবশেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হানা ভিসা জোগাড় করে স্বামীর কাছে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত অশান্তি। অভিযোগ, স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন জাইন। তিনি স্ত্রীকে জোর করে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার জেরে হানা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তকে কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।
Advertisement
এরপর কয়েক মাস আগে হানা হাতে পান সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড ও গ্রিন কার্ড। সেই সময় জাইন তাঁকে ভারতে ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সৌদি আরবে একসঙ্গে তীর্থযাত্রার কথাও বলেন। কিন্তু ভারতে এসে এক হোটেলে ওঠার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। হানার অভিযোগ, একদিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বেরোনোর সুযোগে স্বামী তাঁর সব জিনিসপত্র—গয়না, পোশাক, পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাও হয়ে যান। হোটেল চেক আউট করে সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
Advertisement
মর্মাহত হানা শেষমেশ গত ২২ আগস্ট বিদেশমন্ত্রকের দ্বারস্থ হন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, স্বামীর হাতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। এখন আবার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় নথি হারিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জাইন উদ্দিন বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কিংবা ভারতীয় কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে হানার অভিযোগের পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সবার।
Advertisement



