• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 12 August, 2026

ভারী বৃষ্টি-ধসে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, মৃত ৭০, ক্ষয়ক্ষতি ৯১০ কোটি টাকারও বেশি

সিরমৌরে ৩১টি, হামিরপুরে ১১টি ও মান্ডিতে ৮টি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসইওসি (SEOC)-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসে ১৪ জন এবং পাহাড়ি ঢাল ও গাছ থেকে পড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারী বৃষ্টি-ধসে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, মৃত ৭০, ক্ষয়ক্ষতি ৯১০ কোটি টাকারও বেশি

Photo: Statesman

টানা ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিমাচল প্রদেশে। ৩০ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৩ দিনে দুর্যোগের কারণে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের ১২টি জেলাতেই পরিবহণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (SEOC)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১০.৩৫ কোটি টাকা।

বর্ষার জেরে এখনও রাজ্যে ২০৪টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাতীয় সড়ক এনএইচ-১৫৪ (NH-154) এবং এনএইচ-২১ (NH-21)-এর রাস্তা বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্ডি জেলার ৮০টি রাস্তা। সেই রাস্তাগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। কুল্লুতে ৫৬টি এবং সিরমৌরে ২৩টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। মান্ডি-কুল্লু গুরুত্বপূর্ণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জরুরি পরিষেবা ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজ্যে ৪৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার রিজিয়ন (DTR) এখনও অচল। এর মধ্যে ৪১টি সিরমৌরের নাহান সাবডিভিশনে। এর পাশাপাশি ৮২টি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরমৌরে ৩১টি, হামিরপুরে ১১টি ও মান্ডিতে ৮টি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসইওসি (SEOC)-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসে ১৪ জন এবং পাহাড়ি ঢাল ও গাছ থেকে পড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে ৭ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬ জন ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হিমাচলে ধস-হড়পা বানে বিপর্যস্ত জনজীবন, আড়াই মাসে মৃত ১৫৭, নিখোঁজ ২৫৭

জানা গিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাম্বায় ১৬, কুল্লুতে ১৩, সিরমৌরে ১২ এবং সিমলায় ১১ জন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পূর্ত দপ্তরের। তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৮৬.৩৬ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০৩.৯০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ঘরবাড়ি, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, গবাদি পশু ও ফসলেরও ব্যাপত ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।