প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক দিব্যা মিত্তলের নতুন রাজনৈতিক দল ‘জননীতি ভারত’। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে দলের নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাঁর দল। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা সমস্যাগুলির সমাধান এবং সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দিব্যা।
বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিয়োয় নিজের রাজনৈতিক ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রাক্তন এই আমলা। তাঁর কথায়, “রাজনীতি আপনাদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। কিন্তু ‘জননীতি’তে আপনারাই হবেন শাসক।” অর্থাৎ, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষকে শাসিত হওয়ার বদলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চান তিনি।
প্রায় এক মাস আগেই চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১৩ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিক। সে সময়ই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতার অলিন্দে যাঁদের দাবিদাওয়া পৌঁছয় না, তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চান তিনি। কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থেকে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন দিব্যা।
রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে দিব্যা জানিয়েছেন, আইএএস থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর মনে একাধিক প্রশ্ন ছিল। রাজনীতির মতো বড় ক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেও সময় নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি আইএএস থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। রাজনীতি একটি বড় কাজ, তাই আমি সাহস সঞ্চয় করছিলাম। আজ আমি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে এসেছি। আমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? এর উত্তর হল রাজনীতি।”
প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সমস্যা ও ব্যবস্থার ব্যর্থতা তাঁকে কী ভাবে প্রভাবিত করেছে, তা-ও তুলে ধরেছেন দিব্যা। তাঁর অভিযোগ, অনুমোদন পাওয়ার পরেও স্কুল নির্মাণ না হওয়া, লিজ় দেওয়া জমির হস্তান্তর আটকে থাকা, বেহাল রাস্তার কারণে মানুষের প্রাণহানি এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এই সমস্যাগুলির পিছনে প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
মির্জ়াপুরের জেলাশাসক থাকাকালীন একটি অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন দিব্যা। তাঁর কথায়, লহুরিয়া দহ এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে এক মহিলার সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর। ওই মহিলার বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ ছিল না। দিব্যা ভেবেছিলেন, মহিলা হয়তো নিজের বাড়ি কিংবা পেনশনের দাবি জানাবেন। কিন্তু তাঁকে অবাক করে দিয়ে ওই মহিলা গোটা গ্রামের জন্য একটি স্কুলের দাবি জানান।
এর পর ওই স্কুল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন দিব্যা। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি বলে দাবি তাঁর। এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দিব্যা প্রশ্ন তোলেন, “বলুন তো, কিসের অভাব ছিল? তহবিল, নিয়ম নাকি অনুমোদন? সবকিছুই ছিল, শুধু ইচ্ছাশক্তির অভাব ছিল।” তাঁর মতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ না হওয়ার সমস্যার সমাধান জরুরি। খাতায়-কলমে অনুমোদিত স্কুল বাস্তবে তৈরি হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
কে এই দিব্যা মিত্তল?
৪২ বছর বয়সি দিব্যা মিত্তল আইআইটি দিল্লির প্রাক্তনী। পরে আইআইএম বেঙ্গালুরু থেকে এমবিএ করেন তিনি। ২০১৩ সালে আইএএস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার আগে লন্ডনে আর্থিক ক্ষেত্রে ‘এক্সোটিক ডেরিভেটিভস ট্রেডার’ হিসেবে কাজ করতেন।
প্রশাসনিক কর্মজীবনে সন্ত কবীর নগর ও মির্জ়াপুরের জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন দিব্যা। পাশাপাশি, গোন্ডার মুখ্য উন্নয়ন আধিকারিক, উত্তরপ্রদেশ রাজ্য শিল্পোন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম ব্যবস্থাপনা অধিকর্তা এবং বরেলি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন তিনি।
এ বার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছেন দিব্যা। তাঁর নতুন দল ‘জননীতি ভারত’ ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার।




