• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 17 October, 2026

কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব, স্ট্যালিনের ডিএমকে কি তবে মোদী সরকারের পাশে?

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সরব বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোটার তালিকার

কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব, স্ট্যালিনের ডিএমকে কি তবে মোদী সরকারের পাশে?

Image: IANS

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সরব বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলনেও সক্রিয় ডিএমকে। কিন্তু এই ইস্যুতে কংগ্রেসের সঙ্গে একই মঞ্চে আসতে নারাজ তামিলনাড়ুর শাসকদল। দলীয় বৈঠকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন বলে সূত্রের দাবি। আর এই রাজনৈতিক দূরত্বের মধ্যেই সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল পাশ করানোর অঙ্ক ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে স্ট্যালিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকেও সমর্থন করবে ডিএমকে। তবে কোনও ইস্যুতেই কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে যাওয়া বা তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা চালানোর পক্ষপাতী নন তিনি। কংগ্রেস ডিএমকে-কে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে বলেও দলীয় বৈঠকে মন্তব্য করেছেন স্ট্যালিন, এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে অন্যান্য আঞ্চলিক দলকে সঙ্গে নিয়ে বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার সম্ভাবনাও ডিএমকে-র অন্দরে আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। যদিও তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

ডিএমকে ও কংগ্রেসের এই দূরত্ব জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সংসদের সম্ভাব্য বিশেষ অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল ফের পেশ করা হলে বিরোধী শিবিরের ঐক্য কতটা বজায় থাকবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে ১৭ এপ্রিল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার কথা আলোচনায় এসেছে। তবে নতুন করে বিল পেশ ও তার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চললেও, সরকারের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে এনডিএ। সরকারের একটি সূত্রের দাবি, লোকসভায় বর্তমানে ৫৪০ জন সাংসদ থাকায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের জন্য ৩৬০টি ভোট প্রয়োজন। ওই সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, এনডিএ-র পক্ষে এখন ৩১৯টি ভোট রয়েছে। শরদ পওয়ারের গোষ্ঠী এবং ডিএমকে সমর্থন করলে সেই সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে এই সমর্থনের হিসাব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা এখনও নিশ্চিত নয়।

রাজ্যসভাতেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অঙ্ক কষছে শাসক শিবির বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে ১৬৩টি ভোটের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএমকে-সহ কয়েকটি দলের অবস্থান এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে স্ট্যালিনের দল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত বিলগুলিকে সমর্থন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও ঘোষণা নেই।

সব মিলিয়ে, একদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা, অন্যদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর অঙ্ক—দুইয়ের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েই জল্পনা। বিশেষ অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণা এবং বিলের চূড়ান্ত রূপ সামনে এলেই এই সমীকরণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।