• facebook
  • twitter
Monday, 19 January, 2026

দিল্লি হাই কোর্টে বড় ধাক্কা কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের, সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ

হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতিতার বাবাকে মারধর করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আদালতে ফের ধাক্কা খেলেন উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গার। উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাবার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় তাঁর সাজা স্থগিত রাখার আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। এই রায়ে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল, বহুচর্চিত এই মামলায় কুলদীপের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখাতে রাজি নয় বিচারব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত, এর আগেই ধর্ষণ মামলায় কুলদীপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মকুব সংক্রান্ত দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করে দিয়েছিল। তার জেরে উন্নাও কাণ্ডে প্রাক্তন বিধায়কের আইনি লড়াই ক্রমশ আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার বাঙ্গেরমউ বিধানসভা কেন্দ্রের চারবারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গার এবং তাঁর সহযোগী শশীর বিরুদ্ধে এক নাবালিকার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নির্যাতিতার পরিবারের উপর রাজনৈতিক চাপ ও হুমকি শুরু হয় বলে দাবি করা হয়। পরিবারের বক্তব্য, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার বাবাকে ভয় দেখানো হচ্ছিল। এমনকি কোনও সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

Advertisement

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতিতার বাবাকে মারধর করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর ঘটনায় কুলদীপের নাম জড়িয়ে পড়তেই মামলাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ নিম্ন আদালত কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা দেয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক স্পষ্টভাবে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যু কোনওভাবেই সহ্য করা যায় না। এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি।

এই মামলায় কুলদীপের ভাই অতুল সিংহ সেঙ্গার ও আরও পাঁচজন অভিযুক্তকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে সাজা স্থগিতের আবেদন জানিয়ে কুলদীপ দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, বিষয়টি বিচারাধীন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থার কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়।

তবে এই আবেদনের কড়া বিরোধিতা করে সিবিআই ও নির্যাতিতার পরিবার। সব দিক বিবেচনা করে দিল্লি হাই কোর্ট শেষ পর্যন্ত কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেয়।

Advertisement