• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় শেষ নয়, কেন্দ্রকে ঘেরার পরের প্ল্যান সাজাচ্ছেন রাহুল-কেজরিরা

নিট বিতর্কে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কেজরীবাল, খাড়্গে, শরদ পওয়ার-সহ বিরোধী শিবিরে উচ্ছ্বাস, পরের রণনীতিও তৈরি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় শেষ নয়, কেন্দ্রকে ঘেরার পরের প্ল্যান সাজাচ্ছেন রাহুল-কেজরিরা

LOP Rahul Gandhi Photo-ANI

যন্তরমন্তর থেকে শুরু হয়ে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তাল ছাত্র বিক্ষোভের চাপে অবশেষে গদি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তাঁর ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিক্রিয়ার ঢল। কেউ বলছেন গণতন্ত্রের জয়, কেউ আবার একে বলছেন নেহাতই বাধ্য হয়ে সরে যাওয়া। গোটা ঘটনা ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

 ‘গণতন্ত্রের বড় জয়’

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (AAP) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিবাল এক্স (X)-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় গোটা দেশকে অভিনন্দন, এ যেন গণতন্ত্রের এক বড় জয়। প্রসঙ্গত, এর আগেই যন্তরমন্তরে গিয়ে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেজরি, এমনকি শিক্ষামন্ত্রী পদে ওয়াংচুকের নামও প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।

তাঁর দলেরই আর এক নেতা মণীশ সিসোদিয়া এক্সে লেখেন, দেশের যুবশক্তিকে কুর্নিশ, জেন জি-কে (Gen Z) কুর্নিশ, প্রতিটি আন্দোলনকারীকে কুর্নিশ। তাঁর কথায়, এক দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মাথা নোয়াতে হল জেন-জির সামনে।

তোপ মোদীকে

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এই ইস্তফাকে বর্ণনা করেছেন লক্ষ লক্ষ যুবশক্তির জয় হিসেবে। হিন্দিতে লেখা এক পোস্টে তিনি জানান, ভারতের ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বর অবশেষে দাম্ভিক ক্ষমতাবানের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। এটা সত্যের জয়, আর মোদীর জেদের হার। তিনি আরও লেখেন, এটা সেই সব পরিবারের জয়, যাঁরা এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের কারণে সন্তান হারিয়েছেন। এ বার পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এবং লাঠি, বন্দুক ও পেলেট গান (pellet gun) ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পালা মোদীর।

জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (NCP) নেতা শরদ পওয়ারও এই আন্দোলনকে যুবশক্তির ঐক্যের বড় জয় বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, যন্তরমন্তরে যে সংগ্রাম ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন পড়ুয়ারা, তা প্রশংসনীয়। ভয়হীন ভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে সরকারকে নৈতিক দায়ভার স্বীকারে বাধ্য করার এই লড়াই গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক।

‘স্বেচ্ছায় ইস্তফা নয়’

যদিও এই ইস্তফাকে পুরোপুরি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত বলে মানতে নারাজ বিরোধী শিবিরেরই একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, চাপের মুখে পড়েই সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

নিট বিতর্কের শিকড়

উল্লেখ্য, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে যে বিতর্কের সূত্রপাত, তা ক্রমেই বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের চেহারা নেয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (Cockroach Janta Party, CJP) নেতৃত্বে যন্তরমন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান শুরু হয়। পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এবং পরিস্থিতির সুযোগ কেউ নিতে না পারে, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।

আন্দোলন থামছে না

শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক মনোভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে সিজেপি। তবে ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক দাবি মানা না হলে বিক্ষোভ চলবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। আর বিরোধীশিবিরে এবার তোড়জোড় চলছে ইথানল বিতর্কে নিতিন গডকরীকে বেঁধার। পাশাপাশি ২০ জুলাই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি হামলা অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কাঠগড়ায় তুলতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট।