• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 10 October, 2026

দিল্লি কার্যত দুর্গ, বন্ধ ৪৫টি মেট্রো স্টেশন, আটক বিক্ষোভকারীরা

যাঁরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন না, তাঁদের যাতায়াতে এই বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে

দিল্লি কার্যত দুর্গ, বন্ধ ৪৫টি মেট্রো স্টেশন, আটক বিক্ষোভকারীরা

Image: SNS

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে শনিবার দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল দিল্লি প্রশাসন। বন্ধ রাখা হল ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ। বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। জনপথ-সহ মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এবং এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সিজেপি (CJP। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তা সত্ত্বেও শনিবার মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। এর পরেই জনপথের কাছে বেশ কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। কনট প্লেস এবং সংলগ্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়।

প্রথমে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করা হয়। যাত্রীদের অযথা অসুবিধায় না ফেলে নিয়ন্ত্রিত ভাবে মেট্রো ও রেল পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। পরিবর্তিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলির প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখার কথা ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: দিল্লি বিমানবন্দরে আটক সিজেপির অভিজিৎ দীপকে, আটক সৌরভ-আশুতোষও

এই তালিকায় ছিল রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, মান্ডি হাউস এবং কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। তবে নয়াদিল্লি মেট্রো স্টেশন ছাড়া বাকি প্রভাবিত স্টেশনগুলিতে একটি লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সংযোগ ব্যবস্থা চালু ছিল। যাঁরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন না, তাঁদের যাতায়াতে এই বিধিনিষেধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে।

যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar) দিকে যাওয়ার প্রধান রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড আরও মজবুত করা হয়েছে। কনট প্লেসের আশপাশে পুলিশ রুট মার্চও করে। মান্ডি হাউস এবং ফিরোজ শাহ রোডের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। দিল্লির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার সংযোগকারী প্রবেশপথগুলিতেও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যন্তর মন্তরে যাওয়ার আগেই আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, সিজেপির প্রতিবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) এবং দিল্লি পুলিশের মহিলা বাহিনী ‘পিঙ্ক ফোর্স’। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের অনেকের শরীরে ছিল বডি ক্যামেরা।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের সময় কী ঘটছে, তা নথিবদ্ধ রাখতেই এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও এই ভিডিও প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

ওই আধিকারিকের কথায়, ‘এই বডি ক্যামেরা আমাদের এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্য। ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তাই এই ক্যামেরা থেকে বোঝা যাবে, আমরা কারও সঙ্গে কিছু করেছি কি না। সব কিছুই রেকর্ড হবে।‘ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকর্মীদের।

আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য অস্থায়ী বন্দিশিবির হিসেবেও কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ছত্রশাল স্টেডিয়াম, রাজীব গাঁধী স্টেডিয়াম এবং যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্স। রাজধানীর কিছু এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে।

দেখুন: CJP-র কর্মসূচির আগে দিল্লিতে ধরপাকড়, আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর-সহ একাধিক