• facebook
  • twitter
Sunday, 18 January, 2026

দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘গ্র্যাপ’–নির্ভরতা নিয়ে সরকারের সমালোচনায় জয়রাম রমেশ

শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, গলা জ্বালা, বুকে চাপ— এমন নানান শারীরিক সমস্যার কথা জানাচ্ছেন শহরবাসী। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজধানীর বায়ুদূষণ ফের অতিমাত্রায় স্তরে পৌঁছতেই দূষণ প্রতিরোধে শুধুমাত্র ‘গ্র্যাপ’ অর্থাৎ গ্রেডেড রেস্পন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা সংক্ষেপে জিআরএপি-র উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, ‘শুধু জরুরি অবস্থায় “গ্র্যাপ” সক্রিয় করে লাভ নেই। দূষণ কমাতে সারা বছর ধরে নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।’ রাজধানীর বিপজ্জনক বায়ু গুনের সূচক ফের সাধারণ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি করতেই তিনি সরাসরি প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জয়রাম রমেশের বক্তব্য, দিল্লির বায়ুদূষণ কোনও এক দিনের সমস্যা নয়। বছরের প্রতিটি ঋতুতে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ–ক্ষেত্রের ধূলিকণা, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির চাষের আগুন মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, ‘শীত নামলেই গ্র্যাপ বা জিআরএপি চালু’— এই ধারণা এখন অনেক পুরোনো। দূষণের আসল সমস্যা মোকাবিলায় সারা বছর ধরে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে ওঠার পরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যায়। দূষণের প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, গলা জ্বালা, বুকে চাপ— এমন নানান শারীরিক সমস্যার কথা জানাচ্ছেন শহরবাসী। দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবুও পরিস্থিতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

Advertisement

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির দূষণ রোধে শুধু জরুরি অবস্থায় পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নির্মাণস্থলে কঠোর নজরদারি, শিল্পাঞ্চলে নির্গমন কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহার, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ— সব মিলিয়ে সমন্বিত কৌশল ছাড়া এই সমস্যার সমাধান একেবারেই অসম্ভব বলে তাঁদের মত।

উল্লেখ্য, দিল্লির দূষণ মাত্রা যখন চরমে, ঠিক তখনই জয়রাম রমেশের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তাই আগামী দিনে দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন আদৌ সারাবছর কোনও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে কি না, সে দিকেই এখন সকলের নজর।

Advertisement