• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

বিক্ষোভের নামে প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল কটূক্তি: FIR দায়েরের পর অভিযুক্তদের হদিশ পেতে এক্স-এর দ্বারস্থ দিল্লি পুলিশ

নিট আন্দোলন ঘিরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এফআইআর দায়ের দিল্লি পুলিশের, এক্স-এর কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য তলব। পুরো ঘটনা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাসঙ্গিকতা জানুন।

বিক্ষোভের নামে প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল কটূক্তি: FIR দায়েরের পর অভিযুক্তদের হদিশ পেতে এক্স-এর দ্বারস্থ দিল্লি পুলিশ

Delhi Police registers FIR over abusive posts targeting Modi, seeks user details from X (AI Image)

দেশ জুড়ে চলা পড়ুয়া আন্দোলনের আঁচ এবার গিয়ে পড়ল সমাজমাধ্যমেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য হোমড়়াচোমড়াদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। একইসঙ্গে ইলন মাস্কের এক্স-কে (X, পূর্বতন Twitter) চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির খুঁটিনাটি তথ্য, যেমন ব্যবহারকারীর নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর, ইমেল এবং লগ-ইন-লগ-আউটের সময়সূচি চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar) পড়ুয়াদের বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠেছিল। ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party বা CJP)  নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের দিন হিংসাত্মক চেহারা নেয়, যাতে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া ও নিরাপত্তারক্ষী জখম হন। শেষমেশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরে ২৫ জুলাই আন্দোলন থামে। কিন্তু আন্দোলন চলাকালীন সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য, ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশের সমাজমাধ্যম পর্যবেক্ষণ দল (Social Media Monitoring Team) দীর্ঘদিন ধরেই এই পোস্টগুলির উপরে নজর রাখছিল।

পুলিশের পদক্ষেপ

দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী-সহ সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিয়ে যে সব পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে তা অশ্লীল, মিথ্যা এবং মানহানিকর। সেই অভিযোগেই এফআইআর দায়েরের পরে এক্স-কে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে ওই সব পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের সম্পূর্ণ পরিচয় জানাতে বলা হয়েছে। এর একদিন আগেই একাধিক সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে প্রধানমন্ত্রী সংক্রান্ত আপত্তিকর মন্তব্যযুক্ত পোস্ট ও ভিডিও সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। শুধু ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নয়, বেশ কয়েকটি ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক আঁচ

এই আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও জল ঘোলা কম হচ্ছে না। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মোদীকে দেশের সবচেয়ে যুব-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষ করেছিলেন। প্রকাশ্যে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও (Trinamool Congress), সঙ্গে সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা-উদ্ধব, আপ ও এনসিপি-শারদ পাওয়ার। আন্দোলন দিল্লি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, মুম্বই, কলকাতা-সহ গোটা দেশে। এই প্রেক্ষাপটেই এখন প্রশ্ন উঠছে, দিল্লি পুলিশের এই তথ্য-চাওয়ার নোটিস শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, এবং তার আঁচ পশ্চিমবঙ্গের সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উপরেও এসে পড়ে কি না।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য জরুরি

সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) পরে রাজ্য রাজনীতিতে সমাজমাধ্যমের ভূমিকা এমনিতেই তুঙ্গে। নিট বিতর্কে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের নিজস্ব চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা ফেরানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। এখন সরকার বদলানোর পরও রাজ্যের বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক আরশোলাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপ রাজ্যের সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। তথ্যপ্রযুক্তি আইন (Information Technology Act) ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) সংশ্লিষ্ট ধারায় ইতিপূর্বেও বাংলার একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে প্রায় একই কারণে এফআইআর দায়ের হয়েছে। সমাজমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি সীমারেখা, এই দুইয়ের মাঝে টানাপোড়েন যে আরও প্রকট হচ্ছে, এই ঘটনা তারই সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। এক্স-এর তরফে দিল্লি পুলিশের চিঠির জবাবে কী তথ্য দেওয়া হয় এবং তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আর কোনও গ্রেফতারি বা মামলা হয় কি না, সে দিকেই এখন নজর গোটা দেশের।