• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 4 July, 2026

পাকিস্তানে থাকা ২৩ জঙ্গিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা কেন্দ্রের, কড়া বার্তা মোদী সরকারের

নতুন ২৩ জনের নাম যুক্ত হওয়ার পর এই বিশেষ তালিকায় ঘোষিত সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইন জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

পাকিস্তানে থাকা ২৩ জঙ্গিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা কেন্দ্রের, কড়া বার্তা মোদী সরকারের

Photo: File Photo

সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএর আওতায় পাকিস্তানের মাটিতে থাকা ২৩ জন জঙ্গিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৩ জনের প্রত্যেকেই জম্মু ও কাশ্মীরের নাশকতা, জঙ্গি অনুপ্রবেশ, অস্ত্র সরবরাহ, হামলার পরিকল্পনা এবং জঙ্গি নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি,  তালিকাভুক্ত ২৩ জনের সকলেই পাকিস্তানের নাগরিক বা বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফ এবং জামাত-উদ-দাওয়ার একাধিক শীর্ষ নেতা ও শীর্ষ পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। এই ঘোষণার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, আর্থিক লেনদেন বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানাতে পারবে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছেন জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মিরী। কেন্দ্রের অভিযোগ, ২০২২ সালের সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি। বর্তমানে সংগঠনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি কাজ করছেন। সেই সঙ্গে জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও ভারতে অনুপ্রবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও তিনি পালন করছেন।

একই সংগঠনের নেতা মহম্মদ মুসাদ্দিকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে কেন্দ্র। তিনি পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের ভারতে পাঠানো, নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশে সাহায্য করা, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার এবং অনলাইনে জঙ্গি নিয়োগের নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন জইশের মুফতি মহম্মদ আসগর খান, হাফিজ আবদুল শাকুর এবং আবদুল্লাহ্ জেহাদি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের লঞ্চিং প্যাড পরিচালনা, প্রশিক্ষণ শিবির চালানো এবং জঙ্গিদের ভারতে পাঠানোর দায়িত্বে তাঁরা ছিলেন।

লস্কর-ই-তৈবার তরফে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ফিরদৌস আহমেদ ভাট। তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহৃত লঞ্চিং প্যাডগুলির তদারকি করতেন। সেই সঙ্গে কাশ্মীরে লস্করের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ। টিআরএফ-এর নেতা বিলাল আহমেদ মিরের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা, ভারতে অস্ত্র সরবরাহে সমন্বয় এবং পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

হাফিজ সইদের তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, তাঁরা জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা এবং তরুণদের মগজধোলাই করে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার কাজে সক্রিয় ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইউএপিএ সংশোধনের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তিকেও সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা আসে কেন্দ্রের হাতে। সেই আইনের আওতায় এর আগে দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লখভি, মৌলানা মাসুদ আজহার এবং আরও বহু জঙ্গি নেতাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন ২৩ জনের নাম যুক্ত হওয়ার পর এই বিশেষ তালিকায় ঘোষিত সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইন জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান আরও জোরালো হবে।