সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসইর অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম পদ্ধতিতে গলদ এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়বস্তু। পরীক্ষার উত্তরপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্ক্যান করে মূল্যায়নের এই নতুন ব্যবস্থায় একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বেও বড় রদবদল এনেছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবীণ আইএএস অফিসার লোকহান্ডে প্রশান্ত সীতারাম এবং নতুন সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বরুণ ভরদ্বাজকে। এর আগে বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন রাহুল সিং এবং সেক্রেটারি পদে ছিলেন হিমাংশু গুপ্ত। প্রশাসনিক নির্দেশে তাঁদের অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
ওএসএম বা অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা মূলত পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করে অনলাইনে মূল্যায়নের জন্য চালু করা হয়, যাতে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। বহু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের অভিযোগ, স্ক্যান করা উত্তরপত্রে অস্পষ্ট ছবি, সব পৃষ্ঠা না পাওয়া, পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নেওয়া শিট না পাওয়া এবং নম্বর গণনায় গরমিল দেখা দেয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আসল কপি এবং ডিজিটাল কপির মধ্যে মিল না থাকার মতো অভিযোগও উঠেছে যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার একটি এক সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এস রাধা চৌহানকে। তাঁকে এক মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে কীভাবে এই ডিজিটাল মূল্যায়ন পরিষেবা কেনা হয়েছিল, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম ছিল কি না এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির উৎসই বা কোথায়।
অন্যদিকে এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার্থীদের উপরও। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছেন। যাঁরা উত্তরপত্র যাচাই করতে চান তাঁদের জন্য একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালও চালু করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা পৃষ্ঠা না থাকা বা ভুল মূল্যায়নের মতো অভিযোগ জানাতে পারছেন।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের বদলি করে সরকার আসল সমস্যার দায় এড়াতে চাইছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও একই অভিযোগ করে বলেছেন, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি উদাহরণ এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদদের মতে, ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার বাস্তবায়নে যে পরিমাণ প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত নির্ভুল ফল দরকার ছিল তা হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনার পর সিবিএসইকে ভবিষ্যতে তার মূল্যায়ন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে যেতে হতে পারে। সিবিএসইর ওএসএম বিতর্ক এখন আর শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং শিক্ষাক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।




