অরুণাচল প্রদেশে সরকারি চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। প্রায় ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে সরকারি কাজের বরাত দেওয়ার অভিযোগে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ‘সেভ মন রিজিওন ফেডারেশন’-এর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাকারীদের দাবি, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জনপথ ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের একাধিক টেন্ডার মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী, মা ও ভাইপোর সংস্থাগুলি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ টেন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি হয়েছে কি না তার তদন্ত করবে সিবিআই।
Advertisement
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইকে টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থ বরাদ্দ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার বাইরেও লেনদেন খতিয়ে দেখা যাবে।
Advertisement
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিবিআইকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের সমস্ত চুক্তি পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি, ১৬ সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পথেও এগোতে পারবে সংস্থাটি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব নথি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটি দায়ের করে দুটি সংগঠন— সেভ মন রিজিওন ফেডারেশন এবং ভলান্টারি অরুণাচল সেনা । মামলাকারী সংগঠনগুলির পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে দাবি করেন, এত বিপুল অঙ্কের সরকারি কাজ আত্মীয়দের সংস্থাকে দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, যার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
যদিও অরুণাচল প্রদেশ সরকার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি একটি ‘স্পনসরড লিটিগেশন’ এবং সমস্ত চুক্তি নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং সরকারি বরাত বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
২০১৬ সালে কংগ্রেস থেকে একদল বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে সে বছর রাতারাতি মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসেন পেমা। তাঁকে সমর্থন দেয় বিজেপি। তারপর থেকে তিনিই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে। অভিযোগ সমস্ত সরকারি কাজের বরাত পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়রা। এমনকী বেশ কিছু চুক্তি গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিভিন্ন সংস্থার হাতে। গত দশ বছরে নিজের এবং স্ত্রীর পরিবারের সংস্থাগুলিকে অন্তত ১২৭০ কোটি টাকার বরাত দিয়েছেন পেমা, এমনটাই অভিযোগ।
Advertisement



