নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলার তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৪২২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। চার্জশিটে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রমাণ লোপাট, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট, হাতের লেখা বিশেষজ্ঞের মতামত এবং বিপুল নথিপত্র। বুধবার ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
সিবিআই সূত্রে খবর, চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি এবং ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞদের থেকে শুরু করে দালাল, কোচিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থী পর্যন্ত গোটা চক্রের যোগসূত্র তারা খুঁজে পেয়েছে। বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৩ জনই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। সিবিআই চাইছে, হেফাজতে থাকাকালীনই দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হোক।
তদন্তে উঠে এসেছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির চুক্তিভিত্তিক ৩ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপ্রণেতারাই প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। অভিযোগ, ধৃত শুভম খায়েরনার যশ যাদবের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মাঙ্গিলাল বিওয়ালের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেন। পরে যশ ও মাঙ্গিলাল বিভিন্ন পরিক্ষার্থীর কাছে ওই প্রশ্নপত্র ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ফাঁস করেন। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ১২ মে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। এরপর ৭২ জন তদন্তকারী আধিকারিক এবং ৮ জন সাইবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একাধিক দল গঠন করা হয়। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে মোট ৯২টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের সরঞ্জাম, নথিপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, লকার এবং একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশ্লেষণ, হাতের লেখা বিশেষজ্ঞের রিপোর্ট এবং শিক্ষাবিদদের মতামত থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তা নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে চার্জশিট পেশ হলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে সিবিআই। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চার্জশিটও জমা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে বুধবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক অনু গ্রোভার বালিগা সিবিআইয়ের চার্জশিট নথিভুক্ত করেছেন। চার্জশিটের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০ হাজার পাতার সহায়ক নথিপত্র স্ক্যান করে জমা দেওয়ার জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে আরও তিন দিনের সময় দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৩ আগস্ট।
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভ, বিরোধীদের আন্দোলন এবং দ্রুত বিচারের দাবির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মামলার নিষ্পত্তির ঘোষণা করেছিলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বিচার দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে চার্জশিট পেশকে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।




