কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৭-২৭ ভারতের ডিজিটাল এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবতনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কেন্দ্র চাইছে আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে আগামী দিনে ভারতকে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হোক। সেই লক্ষ্যে বাজেটে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামোয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিশেষ করে ক্লাউড পরিষেবা খাতে বিদেশি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশি সংস্থাগুলি যদি ভারতে তথ্যভান্ডার (ডেটা সেন্টার) তৈরি করে এবং সেখান থেকে বিশ্বব্যাপী ক্লাউড পরিষেবা দেয়, তবে তারা ২০৪৭ সাল পর্যন্ত করছাড় উপভোগ করবে। এই করছাড় শুধুমাত্র বিদেশি গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে ভারতে তথ্য পরিষেবা দিতে চাইলে বিদেশি সংস্থাগুলোকে অবশ্যই দেশীয় কোনও সংস্থার মাধ্যমে তা দিতে হবে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভারতের ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে হাব হিসেবে গড়ে ওঠার দিকে একটি বড় ধাপ। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে দেশের বাইরে থেকে লগ্নি প্রয়োজন। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর নকশা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং এন্টারপ্রাইজ ক্লাউডসহ বিভিন্ন আন্তঃসংযুক্ত ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, আন্তঃসংযুক্ত ক্ষেত্র বা নেটওয়ার্ক হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একাধিক সিস্টেম বা ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে।
Advertisement
আগামী দিনে ভারতে এআই ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বাজার আরও উন্মুক্ত হতে চলেছে। ফলে সেই পরিষেবা প্রতিটি ঘরে পৌছে দিতে চাই পরিকাঠামো এবং বিপুল পরিমাণ লগ্নি। কেন্দ্রের আশা, এই করছাড় বিদেশি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে এবং দেশে বিশাল তথ্যভান্ডার গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছানো সহজ হবে এবং ভারতকে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
Advertisement



