আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার প্রেস কর্নারে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমে উঠল সাহিত্যপ্রেমী মানুষের ভিড়। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এক বিশেষ অনুষ্ঠানে লেখক প্রসূন রায় একসঙ্গে প্রকাশ করলেন তাঁর দু’টি আলোচিত বই। সাহিত্য, ইতিহাস ও অতিলৌকিক অনুসন্ধানের ভিন্ন দুই ধারাকে এক মঞ্চে এনে এই অনুষ্ঠান বইমেলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে উঠল।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রূপা প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ‘দ্য বার্ড ইন লাভ – টেগোর অ্যান্ড হিজ টাইমলেস লেডিজ’। প্রসূন রায় এই বইটি বিশিষ্ট অভিনেতা জয় সেনগুপ্তর সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের এক অনালোচিত দিক—তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নারীদের ভূমিকা—এই বইয়ের মূল উপজীব্য। কবির ভাবনা, সৃষ্টিশীলতা ও আবেগে যাঁরা গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন, সেই নারীদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই সংবেদনশীল ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। সংগ্রাহক সংস্করণ হিসেবে পরিকল্পিত বইটি সাহিত্য, ইতিহাস ও রবীন্দ্রনাথ-অনুরাগীদের কাছে এক মূল্যবান সংযোজন বলেই মনে করছেন পাঠক ও সমালোচকরা।
Advertisement
একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় প্রসূন রায়ের আর এক বহুল আলোচিত নন-ফিকশন বই ‘দ্য প্যারানরমাল বয় – দ্য জার্নি অফ আ ক্রুসেডার’। এই বইটি তিনি যৌথভাবে লিখেছেন ভারতের অন্যতম পরিচিত অতিলৌকিক অনুসন্ধানকারী জে আলানির সঙ্গে। বাস্তব অনুসন্ধান, নথিভুক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্ণনাভঙ্গির মেলবন্ধনে তৈরি এই বই ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Advertisement
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলকাতা বুকওয়ার্মস-এর তরফে খুশি রুংটা। তাঁর সংযত ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা পুরো আলোচনাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহাভা রিডার্স অ্যান্ড রাইটার্স’ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মোনা সেন গুপ্ত এবং বিজ্ঞাপন জগতের পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি, উদ্যোগপতি ও ফিটনেস প্রশিক্ষক বৃন্দা রায়। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
পুরো আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় আহাভা কমিউনিকেশনস। ব্যবস্থাপনা ও প্রচারে তাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন আয়োজকরা।
নিজের বক্তব্যে প্রসূন রায় জানান, দুই বইয়ের ক্ষেত্রেই সহযোগী লেখক ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের মানবিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে অজানা অতিলৌকিক অভিজ্ঞতা—এই দুই বিপরীত ধারার গল্পের বই প্রকাশের জন্য কলকাতা বইমেলার চেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ আর হতে পারে না।’ তিনি আরও জানান, দ্য বার্ড ইন লাভ খুব শীঘ্রই এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব ও দৃশ্য মাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে।
এই জোড়া বই প্রকাশ অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৬-এর এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল। আবারও প্রমাণ হলো, সাহিত্যচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কলকাতার গুরুত্ব আজও অটুট।
Advertisement



