বিহারে নতুন সরকার গঠনের পরই প্রায় এক দশকের পুরনো মাদক নিষেধাজ্ঞা আইন ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল। শাসক জোটের ভিতর থেকেই এই নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হচ্ছে, যা নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জোটের শরিক এক বিধায়ক সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে মদ নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে বিস্তারিত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলেই সমস্যার সমাধান হয় না, এর সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেশামুক্তি কর্মসূচিও সমানভাবে জরুরি। তিনি বলেন, ‘এই আইন চালু হওয়ার পর প্রায় দশ বছর কেটে গিয়েছে। এখন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতিটি নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ তাঁর দাবি, বিধানসভাতেও তিনি এই বিষয়টি একাধিকবার তুলেছেন। অনেক বিধায়ক ব্যক্তিগতভাবে এই মতকে সমর্থন করেছেন। যদিও প্রকাশ্যে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন।
Advertisement
এই বিধায়ক আরও উল্লেখ করেন, মদ নিষেধাজ্ঞার কারণে রাজ্যের আয় কমেছে, যা উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তাঁর মতে, ‘উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি প্রয়োজন। তাই নীতি পুনর্বিবেচনার সময় রাজস্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
Advertisement
উল্লেখ্য, এই দাবি শাসক জোটের ভিতর থেকেই আসায় রাজনৈতিক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে জোটেরই আর এক নেতাও এই নীতির পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের আমলে চালু হওয়া এই মদ নিষেধাজ্ঞা আইন দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। সমর্থকদের মতে, এই নীতির ফলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মদ্যপানজনিত সমস্যা অনেকটাই কমেছে।
অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ ব্যবসা বেড়েছে। আইন প্রয়োগে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন— এই নীতি আগের মতোই বহাল রাখা হবে, না কি বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হবে। শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নজর কেড়েছে।
Advertisement



