• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

ইউসুফ পাঠান থেকে সায়নী ঘোষ, বিদ্রোহের নেপথ্যের ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ

কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, মোট ২০ জন সাংসদ লোকসভায় পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ সংসদীয় দলে বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সঙ্কট শুক্রবার আরও ঘনীভূত হয়ে উঠল। একটি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে পৃথক আসন বিন্যাসের আবেদন জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপ দলের ভিতরের বিভাজনকে আরও প্রকট করে তুলল বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

ছাব্বিশের বিধানসভায় পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ‘বিদ্রোহী শিবির’-এর দাবি, তাঁদের প্রতি সাংসদ ও বিধায়কদের সমর্থন ক্রমশ বাড়ছে। যদিও দলত্যাগী নেতাদের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণরূপে তৃণমূলের ভিতরের বিষয় এবং অন্য কোনও রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ারও প্রশ্নই নেই।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালিপদ সোরেন এবং পার্থ ভৌমিকের নাম।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, মোট ২০ জন সাংসদ লোকসভায় পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ সংসদীয় দলে বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছে।

রাজ্যসভা থেকে একের পর এক ইস্তফা

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যসভা থেকে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের পদত্যাগ দলীয় নেতৃত্বের উপর চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। গত এক সপ্তাহে তিনি তৃতীয় সাংসদ যিনি পদত্যাগ করলেন। এর আগে ১০ জুন রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব এবং ৮ জুন শুধু রাজ্য সভা নয়, তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ইস্তফার পর প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘বিদ্রোহী শিবির’-এর দাবি, পাশে ৬৪ বিধায়ক

রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। সম্প্রতি তিনি রাজ্যে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, ‘বিদ্রোহী শিবির’-এর পাশে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। শুরুতে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৮। তিনি আরও জানান, নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি বিধানসভার স্পিকারের কাছে নতুন করে চিঠি জমা দেবেন।

এনডিএ-যোগের জল্পনা, এখনও কোনও ঘোষণা নয়

অন্যদিকে, ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের বৈঠকের খবর সামনে আসতেই এনডিএ জোটে যোগদানের জল্পনা তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই এই ঘোষণা করেনি। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, দল ভাঙনকে বৈধ স্বীকৃতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে বিদ্রোহী শিবির পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইতে গেলে এই সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করতে হবে।