নকশালবাদের অবসান ঘটানোই দেশের ক্ষত সারানোর একমাত্র পদক্ষেপ নয়। নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন। তাঁদের নতুন করে জীবন গড়তে সাহায্য করা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়াও জরুরি। বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের ‘সেবা ও সমর্পণ’-এর উপলক্ষে আয়োজিত ‘সেবা-সংকল্প’ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রতিবন্ধী করে দিয়েছে নকশালরা। তাঁর মতে, এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
অমিত শাহ বলেন, ‘নকশালবাদের অবসান ঘটলেই গত পাঁচ দশকের মানুষের দুর্ভোগ মুছে যাবে, এমনটা নয়।’ হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা ও তাঁদের সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার উপর তিনি জোর দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ৫ থেকে ৭ অক্টোবর ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে আয়োজিত একটি বিশেষ সহায়তা শিবির থেকে ৩ হাজার ৬০০-রও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৭০ জন বস্তার এলাকার বাসিন্দা। শিবিরে হুইলচেয়ার, ট্রাইসাইকেল, শ্রবণযন্ত্র এবং হাঁটার জন্য ব্যবহৃত লাঠি বিতরণ করা হয়। নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নকশালবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করার বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকার প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কাজে ছত্তিশগড় সরকারের পাশে কেন্দ্র রয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসনের প্রসঙ্গে শাহ জানান, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৫২৬ জন নকশাল আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জনকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৬২৫ জন পুরস্কারের অর্থ পেয়েছেন এবং ৭ হাজার ৮৮২ জনকে উৎসাহভাতা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ৪৫৫ জনকে চাকরি ও ১২৯ জনকে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, নিরাপত্তা শিবিরগুলিকে ভবিষ্যতে পরিষেবা কেন্দ্র ও জনসুবিধা কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান-সহ বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের কাছে।
তিনি বলেন, যে জায়গাগুলিতে একসময় নিরাপত্তারক্ষীরা মানুষের সুরক্ষার জন্য থাকতেন, সেখান থেকেই এবার উন্নত বস্তার গড়ার কাজ শুরু হবে। এদিন বস্তার অলিম্পিক, বস্তার পাণ্ডুম প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে নকশালপ্রভাবিত অঞ্চলে পুনর্বাসন, উন্নয়ন ও জনপরিষেবা সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।




