• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 8 October, 2026

বৃষ্টির ঘাটতিতে দেশের একাধিক রাজ্য, অন্ধ্রপ্রদেশে ৫৩ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি – ৫৬ শতাংশ মণ্ডলে খরা ঘোষণা

বর্ষার ঘাটতির কারণে এবার দেশের একাধিক রাজ্যে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশকে খরা কবলিত বলে ঘোষণা

বৃষ্টির ঘাটতিতে দেশের একাধিক রাজ্য, অন্ধ্রপ্রদেশে ৫৩ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি – ৫৬ শতাংশ মণ্ডলে খরা ঘোষণা

Image: IANS

বর্ষার ঘাটতির কারণে এবার দেশের একাধিক রাজ্যে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশকে খরা কবলিত বলে ঘোষণা করেছে অন্ধ্র সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশের ২১টি জেলার ৬৮৮টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৮৮ টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ৩৮৮টি খরাকবলিত মণ্ডলের মধ্যে ২৮৩টি মণ্ডলে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার নিয়েছে। বাকি ১০৫টি মণ্ডলকে মাঝারি খরার আওতায় রাখা হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৩.৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সামগ্রিক খরা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এল নিনোর প্রভাব এই ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু অন্ধ্রপ্রদেশেই নয়, মহারাষ্ট্রেও এবার বৃষ্টির ঘাটতি বড় সমস্যা তৈরি করেছে। রাজ্যে ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিরও বেশি তালুককে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইয়াভতমাল, চন্দ্রপুর, বিদর্ভ এবং মরাঠওয়াড়ার বিভিন্ন এলাকায় ফসল, পানীয় জল এবং পশুখাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চন্দ্রপুরে ১২টি খরাকবলিত তালুকের ১,৫৭৯টি গ্রামে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্ণাটকেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বর শুরুর হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৩১টি জেলার মধ্যে ৩০টিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ১০১টি তালুককে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ২৫টি তালুককে সেই তালিকায় আনার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।

তেলেঙ্গানাতেও ১৭ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। বহু এলাকায় খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এল নিনোর প্রভাব নিয়ে রাজ্য সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একাধিক রাজ্যে এই খরা পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে এবারের দুর্বল বর্ষা। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতেই দেশের ৪৭ শতাংশ জেলা বৃষ্টির ঘাটতির মুখে ছিল। বিহার, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম-মেঘালয়, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অঞ্চল, পাঞ্জাব, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা-দিল্লি, কেরল, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব রাজস্থান, উপকূলীয় কর্ণাটক-সহ একাধিক অঞ্চলে ঘাটতি উল্লেখযোগ্য।

বর্ষা শেষে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিও স্বাভাবিকের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে। ফলে কৃষি, জলাধারের জলস্তর এবং পানীয় জলের জোগান—তিন ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ।

অন্ধ্রপ্রদেশে ৩৮৮ মণ্ডলে আনুষ্ঠানিক খরা ঘোষণা এই বৃহত্তর ছবিরই একটি অংশ। কোথাও ইতিমধ্যেই খরা ঘোষণা হয়েছে, কোথাও সেই প্রক্রিয়া চলছে, আবার কোথাও বৃষ্টির ঘাটতির ফলে খরা-পরিস্থিতি তৈরি করেছে। চলতি মরসুমে অনিয়মিত ও কম বৃষ্টির প্রভাব তাই দেশের কৃষি ও জল-নিরাপত্তার উপরও পড়ছে।

উল্লেখযোগ্য হল, এবছর জুনেই দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা করেছিল কেন্দ্র। সেইমতো ১২টি রাজ্যের প্রায় ৩১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই জেলাগুলির জন্য কম বৃষ্টির পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে বিকল্প ফসল, জল সংরক্ষণ এবং কৃষকদের সাহায্যের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। জুনের সেই আশঙ্কার পর এখন দেশের একাধিক রাজ্যে খরা ও বৃষ্টির ঘাটতির ছবি স্পষ্ট হচ্ছে।