দীর্ঘদিনের জল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অমরাবতীকে অন্ধ্রপ্রদেশের আনুষ্ঠানিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল। ৬ এপ্রিল জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে আইনি সিলমোহর দেয় কেন্দ্র। ২০২৬ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন (সংশোধনী) আইনের অধীনে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের ২ জুন থেকে কার্যকর বলে ধরা হবে। ফলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অমরাবতীকে সরকারিভাবে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তেলেঙ্গানা আলাদা হওয়ার পর থেকে হায়দরাবাদকে অস্থায়ী যৌথ রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রায় ১২ বছরের সেই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতির অবসান ঘটল এই ঘোষণার মাধ্যমে।
Advertisement
এই সিদ্ধান্তের কথা নিজেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতী।‘ একইসঙ্গে তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, এটি রাজ্যের মানুষের, বিশেষত অমরাবতীর কৃষকদের বড় জয়।
Advertisement
এই ঘোষণার পিছনে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া। ২৮ মার্চ অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় অমরাবতীর পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১ এপ্রিল লোকসভা এবং ২ এপ্রিল রাজ্যসভায় সংশোধনী বিলটি পাশ হয়। পূর্ববর্তী আইনে যেখানে হায়দরাবাদকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, নতুন সংশোধনীতে সরাসরি অমরাবতীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সাংসদ গোল্লা বাবু রাও এই পদক্ষেপকে ‘নাটক’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজধানী নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজের সব স্তরের মানুষের মতামত গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
Advertisement



