ইরান ও আমেরিকার সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। পেট্রোল ও ডিজেল ফুরিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলিতে উপচে পড়ে ভিড়। এর ফলেই অন্ধ্রপ্রদেশের ৪০০-রও বেশি পাম্পে জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে যায় এবং সেগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশে মোট ৪,৫১০টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে, যার মধ্যে ৪২১টিতে ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত শেষ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাকি পাম্পগুলিতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ২ লিটার এবং চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লিটার।
Advertisement
অন্ধ্রপ্রদেশ পেট্রোল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান গোপাল কৃষ্ণ বলেন, সাধারণত যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭,০০০ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়, সেখানে আতঙ্কের কারণে একদিনেই বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪,০০০ লিটারেরও বেশি। এর জেরে বিজয়ওয়াড়া, গুন্টুর, রাজামুন্দ্রি, কুরনুল এবং নেল্লোর-সহ একাধিক শহরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি না পেয়ে ফিরতে হয়েছে।
Advertisement
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রকৃত তেল সংকটের চেয়ে গুজবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করতে শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরাই ইচ্ছাকৃতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু । তিনি জেলাশাসকদের জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা তৈরি করে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
আধিকারিকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, শনিবার ডিলারদের কাছে ১০,৩৪৫ লিটার পেট্রোল এবং ১৪,১৫৬ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে কেনার হিড়িকের জেরে বহু আউটলেটে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। যার জেরেই শেষ হয়েছে জ্বালানি তেল।
Advertisement



