আদানির নিয়ন্ত্রণাধীন মুম্বই বিমানবন্দরে এবার বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে। আর সেই রদবদল নিয়ে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে রীতিমতো সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। আদানি এয়ারপোর্টস হোল্ডিংসের (Adani Airports Holdings) চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বা সিইও অরুণ বনসল (Arun Bansal) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে তাদের অপারেশন নভি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Navi Mumbai International Airport) সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর যারা এই নির্দেশ মানতে রাজি নয়, তারা মুম্বইয়ে বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিতে পারে।
কড়া নির্দেশ
এই প্রসঙ্গে একটি অত্যন্ত কড়া উপমা ব্যবহার করেছেন আদানি কর্তা। তিনি বলেন, একজন বাড়িওয়ালা যেমন তাঁর ভাড়াটেকে বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, ঠিক তেমনই বিমান সংস্থাগুলিকে আগামী এপ্রিল মাস থেকে জায়গা খালি করতে বলা হয়েছে। তারপর তারা কোথায় যাবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এভিয়েশন ইন্ডিয়া সামিট ২০২৬ (Aviation India Summit 2026) অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
কেন এই বিতর্ক
আদানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (Mumbai International Airport Ltd) বর্তমানে তাদের এক নম্বর টার্মিনালের (Terminal 1) ব্যাপক সংস্কারের কাজ শুরু করতে চলেছে। আর সেই সংস্কারের কারণেই দুই নম্বর টার্মিনালের (Terminal 2) ওপর চাপ কমাতে কিছু উড়ানকে নভি মুম্বইয়ে স্থানান্তরিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই স্থানান্তর নিয়ে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলি তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। দু’টি আলাদা বিমানবন্দর থেকে উড়ান পরিচালনা করলে যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হবে এবং এর ফলে পুরো পরিচালন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা
প্রথমে শীতকালীন সূচি থেকেই এই বদল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে আগামী এপ্রিল ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন সূচি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর স্লট বন্টনের (Slot allocation) তালিকা প্রকাশিত হবে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন কোন বিমান সংস্থা নভি মুম্বইয়ে যেতে চায়নি এবং তার ফলে মুম্বই বিমানবন্দরে তাদের বর্তমান স্লট হারাতে চলেছে।
যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা
বিমান সংস্থাগুলির মূল চিন্তার কারণ হল পরিকাঠামো এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য। নতুন বিমানবন্দরে যাত্রীদের সুযোগসুবিধা, আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি (International connectivity) এবং যাতায়াতের মাধ্যম কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন সেই সমস্ত যাত্রীরা, যাদের অন্তর্দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উড়ান বদল করার (Connecting flights) প্রয়োজন পড়বে। দু’টি ভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহার করলে যাত্রাপথ আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




