• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 3 November, 2026

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া কোপ, সদর দপ্তরের বাইরে পুলিশকর্মীদের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে সাসপেন্ড দিল্লির এসিপি

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল তিনটি। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে অবিলম্বে বৈঠক করতে হবে। আদালত ও থানায় পুলিশ এবং আইনজীবীদের বচসা সামলাতে একটি সুনির্দিষ্ট 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর' তৈরি করতে হবে। বদলি হওয়া অফিসারদের পুরোনো পদে ফেরাতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া কোপ, সদর দপ্তরের বাইরে পুলিশকর্মীদের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে সাসপেন্ড দিল্লির এসিপি

ACP Manasvi Vashishtha (Imege: Video Screen Grab)

নিজের বদলির (Transfer) প্রতিবাদে এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরের (Delhi Police Headquarters) বাইরে বেনজির বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তার ঠিক পরের দিনই কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মঙ্গলবার সাসপেন্ড করা হল দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠকে (ACP Manasvi Vashishtha)।

ঘটনার সূত্রপাত কোথায়?

গত ২৩ অক্টোবর শাহদরা (Shahdara) থানায় পুলিশ ও আইনজীবীদের মধ্যে একটি বচসা থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, সেই ঘটনায় ললিত বনশল নামে এক আইনজীবী মাথায় গুরুতর চোট পান। আইনজীবীদের পালটা দাবি ছিল, এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ তাঁদের নিজের সার্ভিস রিভলভার দেখিয়ে হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের (Indefinite Strike) ডাক দেন।

বদলির নির্দেশ ও ক্ষোভের আগুন

আইনজীবীদের চাপের মুখে পড়ে দিল্লি পুলিশ গত ২৮ অক্টোবর এসিপি মনস্বীকে গান্ধী নগর সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের (SDPO) পদ থেকে সরিয়ে স্পেশাল পুলিশ ইউনিট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেনে (SPUWAC) বদলি করে। একই সঙ্গে শাহদরা থানার এসএইচও (SHO) অরুণ কুমারকেও সিকিউরিটি ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়। এই পদক্ষেপের পরেই আইনজীবীরা তাঁদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু সহকর্মীদের এই বদলি মেনে নিতে পারেনি দিল্লি পুলিশের নিচুতলার কর্মীরা। তাঁদের মতে, আইনজীবীদের চাপের মুখে নতিস্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত পুলিশের মনোবল ভেঙে দেবে।

সদর দপ্তরে বেনজির বিক্ষোভ

সহকর্মীদের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে সোমবার, ২ নভেম্বর, প্রায় ১০০-১৫০ জন পুলিশকর্মী দিল্লি পুলিশ হেড কোয়ার্টারের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। খোদ এসিপি মনস্বী এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন, এই প্রতিবাদ পুলিশকর্মীদের একটি ‘স্বতঃস্ফূর্ত ডাক’ (Organic call) এবং তিনি কেবল একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে তাতে যোগ দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল তিনটি। পুলিশ কমিশনারের (Commissioner of Police) সঙ্গে অবিলম্বে বৈঠক করতে হবে। আদালত ও থানায় পুলিশ এবং আইনজীবীদের বচসা সামলাতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) তৈরি করতে হবে। বদলি হওয়া অফিসারদের পুরোনো পদে ফেরাতে হবে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকর্মীদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘পুলিশ একতা জিন্দাবাদ’ স্লোগানও শোনা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া পদক্ষেপ

দিল্লি পুলিশের ইতিহাসে এমন বিক্ষোভের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। উর্দি পরেই প্রতিষ্টানকে চ্যালেঞ্জ করার জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠকে সাসপেন্ড (Suspended) করার নির্দেশ দেয়। জানানো হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত (Departmental proceedings) চলাকালীন এই সাসপেনশনের নির্দেশ বহাল থাকবে।