• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

ডিমে ‘এওজেড’এর উপস্থিতি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

বিজ্ঞাপন নয়, সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সংস্থার ডিম খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

 ডিমের পুষ্টি ও স্বাদ নিয়ে এখন নানা বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এই সমস্ত সংস্থাগুলির ডিমে এমন কিছু ক্ষতিকর উপদান থাকে যা শরীরে ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে। এই নিয়ে সম্প্রতি তোলপাড় ওঠে দেশজুড়ে। প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি সংস্থা এগওজ-এর বিরুদ্ধে এই ধরণের ক্ষতিকারক উপাদানযুক্ত ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

ট্রাস্টিফায়েড নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খাবারের গুণাগুণ ও তা যাচাইয়ের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি এই চ্যানেলের তরফে সংস্থাটির ডিমের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। একটি ভিডিও-য় চ্যানেলটি দাবি করে, গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, এগওজ-এর ডিমে নাইট্রোফুরান থেকে সৃষ্ট এওজেড রয়েছে, যার সঙ্গে ক্যান্সারের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাও।

Advertisement

 
ইউটিউব চ্যানেলটির অভিযোগ, এই সংস্থার ডিম গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এগওজ-এর ডিম পরীক্ষা করে প্রতি কেজিতে ০.৭৪ মাইক্রোগ্রাম এওজেড পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু দেশে পশুর দেহে এওজেড প্রয়োগ নিষিদ্ধ। কারণ এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। মানবশরীরে ডিএনএ-রও ক্ষতি হয়। মুরগিদের ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করতে বহু ফার্মে ডিমের পরিমাণ বাড়াতে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সংস্থাটির ডিমে এই ক্ষতিকর উপাদান মেলার পরই তোলপাড় শুরু হয়। 
 
এগওজ ডিম উৎপাদনকারী সংস্থাটি তাদের বিজ্ঞাপনেই বলা হয়ে থাকে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত, স্টেরয়েড বা অন্যান্য রাসায়নিকমুক্ত উচ্চমানর খাবার পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। ফলে এই সংস্থার ডিমের চাহিদাও ভাল। ইউটিউব চ্যানেলটিতে ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই হৈ চৈ শুরু হয়। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এফএসএসএআই-এর কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়।
 
বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ শুরু হলে এগওজ-এর তরফেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ভারতে প্রতি কেজিতে ১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত এওজেড ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের আরও দাবি, এওজেড থাকা মানেই অ্যান্টিবায়োটিক নয়। মাটি বা কাঁচামালের কারণেও ঘটতে পারে। কিন্তু আলাদা করে মুরগিকে কিছু খাওয়ানো হয়না। 
 
এতেও পরিস্থিতির তেমন বদল ঘটেনি। গ্রাহকদের অভিযোগ, সংস্থাটি তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে মুখ খোলেন মুম্বইয়ের চিকিৎসক মনন ভোরা। এগওজ-এর ডিমে যে ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া গিয়েছে তা ‘জেনোটক্সিক’। এর জিনের গঠন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। চিকিৎসক জানান, তিনি নিজেও এই সংস্থার ডিম খান। তাঁর প্রশ্ন, কেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ এই বিষয়টি ধরতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত বলেও অভিমত তাঁর।
তবে মননের দাবি, এগওজ-এর ডিমে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে বলেই অন্য ডিমেও থাকবে তা মনে করার কোনও কারণ নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ, একমাত্র সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সংস্থার ডিম খাওয়ার। চোখধাঁধানো প্যাকেজ দেখে ডিম কিনতে নিষেধ করছেন তাঁরা। 
 
বহু ভারতীয়র বাড়িতেই ডিম প্রায় প্রত্যেকদিনই খাওয়া হয়। শিশুদেরও ডিম খাওয়ানো হয়ে থাকে। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবার রান্না করাও সহজ। কিন্তু সম্প্রতি ডিমে এওজেড এবং ডিমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই খাবারও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।   
 
 

Advertisement

Advertisement