• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

সুপ্রিম কোর্টে ডিএ দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন রাজ্যের

আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিসগুলিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতানেত্রীরা

সুপ্রিম কোর্টে ডিএ দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন রাজ্যের

Supreme Court Photo-SNS

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি হিসেবে ২৫ শতাংশ টাকা মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে শীর্ষ আদালতে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে রাজ্য। প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ এখনও মেলেনি। এর প্রতিবাদে আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিসগুলিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন।

উল্লেখ্য, এর আগেই কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ কর্মীদের দিতে হবে। এ জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকার অর্থ প্রদান করতে পারেনি। বরং অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই মামলার শুনানি শেষ হয়। এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। তাই বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতেই হবে। আদালত নির্দেশ দেয়, মে মাসের মধ্যে দুই দফায় বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরবর্তীতে বাকি অর্থ কতদিনের মধ্যে ও কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগের অনেক নথি এখনও ডিজিটাল নয় এবং হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে রয়েছে। সেগুলি ডিজিটাইজ করার কাজ চলায় সময় লাগছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মীর সংখ্যাও কমে যাওয়ায় কাজের গতি কমেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে রাজ্যের এই যুক্তিতে অসন্তোষই প্রকাশ করেছেন সরকারি কর্মীরা।