৩০ বছরে পা দেওয়ার পর থেকেই নিঃশব্দে শুরু হতে পারে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, পেশিক্ষয়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় সারকোপেনিয়া। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথে প্রকাশিত ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি জানান, ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর মানুষের শরীর থেকে গড়ে প্রায় ১ শতাংশ করে পেশি কমতে থাকে এবং অনেক সময় ব্যাপারটি টেরই পাওয়া যায় না।
সারকোপেনিয়া হল বয়সজনিত কারণে স্কেলেটাল মাসেলের ভর, শক্তি ও কার্যক্ষমতার ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়াজনিত রোগ। এই পেশিক্ষয়ের ব্যাপারটির শুরুটা ধীরগতির হলেও ৬০ বছর বয়সের পর এই ক্ষয়-প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে, যার প্রভাব পড়ে চলাফেরা, শারীরিক ভারসাম্যরক্ষা ও স্বনির্ভরতার উপর। শরীরের পেশি ক্ষয়ে যাওয়া মানে শুধু দুর্বলতাই নয়, এর রয়েছে গভীর বিপাকীয় প্রভাবও। ড. শেঠির কথায়, পেশি মানব-শরীরের সবচেয়ে বড় ‘গ্লুকোজ স্পঞ্জ’, যা রক্ত থেকে শর্করা শোষণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
Advertisement
ফলে পেশি ক্ষয় হলে পরিপাক-প্রক্রিয়ার গতি হ্রাস, শরীরে চর্বির সঞ্চয় বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি হাড় দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।মহিলাদের ক্ষেত্রে পেশিক্ষয়ের ঝুঁকি আরও তাড়াতাড়ি বাড়তে পারে। ‘দ্য ল্যানসেট’-এ ২০০৯ সালে প্রকাশিত তাবাক এ.জি এবং তাঁর সহকর্মীদের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে দ্রুত পেশিক্ষয় হতে পারে। তাই অনেক প্রিমেনোপজাল মহিলারা ওজন না বাড়লেও শরীরে দুর্বলতা অনুভব করেন।
এর থেকে এই বার্তা স্পষ্ট যে, বয়স বাড়ার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই পেশি গঠনে মনোযোগ দেওয়া দরকার। নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং, পর্যাপ্ত প্রোটিনজাতীয় খাবার খাওয়া ও সক্রিয় জীবনযাপন সকলকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সক্ষম থাকতে সাহায্য করতে পারে।
Advertisement
Advertisement



