• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 17 October, 2026

শরৎ এল রে: কলেজ স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়-সহ কলকাতার সাতটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে বর্জ্যহীন পুজোর উদ্যোগ

ইন্ডিয়ান প্লাস্টিকস ফেডারেশন (আইপিএফ)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘জিরো ওয়েস্ট দুর্গাপুজো ২০২৬’ কর্মসূচি

শরৎ এল রে: কলেজ স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়-সহ কলকাতার সাতটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে বর্জ্যহীন পুজোর উদ্যোগ

Image: SNS

দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) কলকাতার রাস্তায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শহরে বর্জ্যের পরিমাণও। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব পুজোর বার্তা দিতে কলকাতার সাতটি বড় দুর্গাপুজো (Durga Puja) মণ্ডপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্যহীন পুজো উদযাপন এবং উৎসবের মরসুমে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই লক্ষ্য।

ইন্ডিয়ান প্লাস্টিকস ফেডারেশন (আইপিএফ)-এর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘জিরো ওয়েস্ট দুর্গাপুজো ২০২৬’ কর্মসূচি। কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বিধাননগর পুরনিগমের (বিএমসি) সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পুজোর উদ্বোধন থেকে দশমী পর্যন্ত নির্বাচিত মণ্ডপগুলিতে ১২০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। চারটি শিফটে দিনরাত কাজ করছেন তাঁরা। তাঁদের মূল দায়িত্ব উৎসস্থলেই বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণ করা। বিশেষত, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিককে অন্যান্য বর্জ্য থেকে আলাদা করে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে সেগুলিকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নতুন সামগ্রী তৈরির কাজে লাগানো যায়। পাশাপাশি, মণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার এবং যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার জন্য সচেতন করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ত্রিপুরার রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ আধিকারিক, বাংলায় ‘কেতে ধুতি’-র প্রতিষ্ঠাতা আর চাঁদুলির ২৮৫ বছরের দুর্গাপুজো

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট সংগ্রহের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে রিসাইক্লিংয়ের জন্য। অন্য দিকে, জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি করা হচ্ছে সার। এর ফলে ভাগাড়ে জমা হওয়া বর্জ্যের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সম্পদের পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান প্লাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি অমিত আগরওয়াল।

তিনি বলেন, “আইপিএফের পক্ষ থেকে আমরা মানুষকে প্লাস্টিককে ‘না’ বলার পরিবর্তে প্লাস্টিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করতে এবং সচেতন ভাবে ব্যবহারের বার্তা দিয়ে আসছি।” তাঁর সংযোজন, খাবারের দোকান ও অন্যান্য জনবহুল এলাকায়ও স্বেচ্ছাসেবকেরা রয়েছেন। তাঁরা দর্শনার্থীদের সচেতন করছেন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বার্তা দিতে বিভিন্ন প্রচারপত্র বিলি করছেন।

দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় কলকাতায় বর্জ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। এই সময়ে শহরে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১,০০০ টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। ফলে বর্জ্য সংগ্রহ, উৎসস্থলে পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তিনি নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটির চেয়ারম্যান এবং সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদের সঙ্গেও যুক্ত।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনিতে জোড়বাড়ির পুজোয় নবপত্রিকার আগমন

সুব্রত গুপ্ত বলেন, “দুর্গাপুজো উদ্‌যাপনের পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বের কথাও মনে রাখতে হবে। আনন্দে সকলে একত্রিত হওয়ার সময় আমরা যেন অসতর্ক ভাবে ফেলে দেওয়া বর্জ্যের কারণে পরিবেশকে দূষিত না করি। সকলের কাছে আমার আবেদন, বর্জ্য সংগ্রহ করুন এবং নির্দিষ্ট জায়গায় তা ফেলুন।”

তাঁর মতে, পুজোর দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আগামী বছরগুলিতে এই কর্মসূচি আরও বড় আন্দোলনের রূপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কলেজ স্কোয়ার দুর্গাপুজো (Durga Puja) কমিটির সহ-সভাপতি শঙ্কর দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, মণ্ডপে খাবারের বর্জ্য এবং প্লাস্টিক আলাদা করে ফেলার জন্য একাধিক ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিকের সামগ্রী পৃথক ভাবে নির্দিষ্ট বিনে ফেলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

মুদিয়ালি পুজোর এক উদ্যোক্তাও জানিয়েছেন, প্রতি বছরই এই পুজোয়(Durga Puja) বিপুল জনসমাগম হয়। সেই কথা মাথায় রেখে এ বছর পরীক্ষামূলক ভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণের কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মণ্ডপ ও তার আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে উৎসাহিত করতে পারব।”

দেখুন: