• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 23 July, 2026

Explained: বিক্ষোভ দমাতে দিল্লি পুলিশের হাতে কি সত্যিই বাড়তি ক্ষমতা? NSA বিতর্কের রহস্যফাঁস

সিজেপি (CJP) আন্দোলন ঘিরে উত্তাল রাজধানী, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল এই বিতর্কিত নির্দেশিকা...

Explained: বিক্ষোভ দমাতে দিল্লি পুলিশের হাতে কি সত্যিই বাড়তি ক্ষমতা? NSA বিতর্কের রহস্যফাঁস

Delhi Police NSA Explainer (pic-X/@Zebaism)

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের আঁচ যত বাড়ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে এক নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্র আন্দোলন দমন করতে দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে জাতীয় সুরক্ষা আইন বা এনএসএ (National Security Act) অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবি ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কিন্তু আসল ঘটনাটা ঠিক কী, তা নিয়েই ধোঁয়াশা কাটছে না।

কী ঘটেছে আসলে

দিল্লির উপরাজ্যপাল দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে এনএসএ, ১৯৮০-র অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছেন, আগামী তিন মাসের জন্য। অর্থাৎ ১৯ জুলাই থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন। দিল্লি গেজেটে (Delhi Gazette) এই সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ২২ জুলাই, বুধবার রাতে। যদিও নির্দেশটি জারি হয়েছিল তার আগেই, ১৫ জুলাই।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রয়েছে সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) আন্দোলন। নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জন্তরমন্তরে চলছে ছাত্রদের ধর্না। সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়ে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয়। এই সংঘর্ষের জেরেই এনএসএ সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।

পুলিশের সাফাই

তবে দিল্লি পুলিশ এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, এই ক্ষমতা প্রদান কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রতি তিন মাস অন্তর যে নিয়মমাফিক পুনর্নবীকরণ (routine renewal) হয়ে থাকে, এটি তারই অংশ। পুলিশের দাবি, বর্তমান নবীকরণের নির্দেশ জারি হয়েছিল ৭ জুলাই, যা কার্যকর হবে ১৯ জুলাই থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। অর্থাৎ সিজেপি আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া চলছিল।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশে গোটা দিল্লিতে এনএসএ জারি হয়নি, নতুন কোনও বিধিনিষেধও চাপানো হয়নি। বরং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তবেই প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে। অর্থাৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাত্রেই কাউকে এই আইনে আটক করা যাবে না বলেই দাবি প্রশাসনের।

রাজনৈতিক তরজা

সময়ের হিসেবই এখানে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছে। নির্দেশিকা জারি হয়েছে ১৫ জুলাই, প্রকাশ পেয়েছে ২২ জুলাই, ঠিক যখন সিজেপি আন্দোলন তুঙ্গে। প্রশাসনিক ভাষায় একে নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া বলা হলেও, বিরোধীদের একাংশ একে কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ। রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, এমন দাবিও তুলেছেন। প্রশাসনের সময় নির্বাচন এবং জনমানসে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মধ্যেকার সাযুজ্য নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকেরা, যদিও প্রশাসনিক নথিতে সরাসরি আন্দোলন দমনের উল্লেখ নেই।

এনএসএ আসলে কী

জাতীয় সুরক্ষা আইন বা এনএসএ এমন একটি আইন, যার অধীনে কোনও ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ১২ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখা যায়। জনসুরক্ষার স্বার্থে সম্ভাব্য বিপদ ঠেকাতেই এই আইনের ব্যবহার হয়ে থাকে বলে দাবি করা হয়। অতীতেও এই আইন নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি, গত বছর লে-র জেলাশাসকের নির্দেশে সোনম ওয়াংচুককে এই আইনেই ১৭০ দিন আটক রাখা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট এলাকায় হিংসার জেরে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দিল্লি পুলিশকে এনএসএ প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, এটুকু সত্যি। কিন্তু তা সিজেপি আন্দোলন দমনের জন্যই বিশেষভাবে জারি হয়েছে, এই দাবির স্বপক্ষে সরকারি নথিতে সরাসরি প্রমাণ নেই। বরং সময়ের সমাপতনই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।