কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে সিকিউরিটি অ্যাডমিন পদে চাকরির সুযোগ। ডিজিটাল যুগে তথ্যই এখন সবচেয়ে বড় সম্পদ। ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে সরকারি নথি—সবকিছুই এখন কম্পিউটার ও অনলাইন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে তথ্যকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই দায়িত্বই মূলত সামলান ‘সিকিউরিটি অ্যাডমিন’ পদে কর্মরত ব্যক্তিরা। ফলে বর্তমান সময়ে এই পদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই।
একজন সিকিউরিটি অ্যাডমিনের প্রধান কাজ হল বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে সুরক্ষিত রাখা। বর্তমানে সাইবার হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণে দক্ষ সিকিউরিটি কর্মীর প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই পেশার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
Advertisement
এই পদে কাজ করতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। যেমন, পেনেট্রেশন টেস্টিং, নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ, দুর্বলতা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়।
Advertisement
কাজের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব কম নয়। একটি সংস্থার সার্ভার, নেটওয়ার্ক এবং সফটওয়্যারকে সুরক্ষিত রাখা সিকিউরিটি অ্যাডমিনের অন্যতম প্রধান কাজ। পাশাপাশি ফায়ারওয়াল ও অ্যান্টিভাইরাস ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হয়। ব্যবহারকারীদের লগইন ও পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা, সন্দেহজনক কার্যকলাপ চিহ্নিত করা এবং সাইবার হামলা প্রতিরোধ করা—এসবই এই পদের দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কোনও সমস্যা দেখা দিলে তার উৎস খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধান করাও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বেতনের দিক থেকেও এই পেশা যথেষ্ট আকর্ষণীয়। নতুন কর্মীরা সাধারণত বছরে ৩ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বেতন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তিন থেকে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতায় বছরে ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। আর পাঁচ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা থাকলে সেই বেতন ১৫ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে।
চাকরির সুযোগের ক্ষেত্রেও এই পেশা যথেষ্ট বিস্তৃত। মূলত বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে এই পদে নিয়োগ বেশি হলেও, সরকারি ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে তথ্য সুরক্ষার জন্য এই পদে কর্মী নিয়োগ করা হয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে এই পদের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যারা এগোতে চান এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য সিকিউরিটি অ্যাডমিন পদ একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে উঠে আসছে।
Advertisement



