• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 31 July, 2026

নির্বাচনী বন্ড কিছু প্রাথমিক প্রশ্ন

পঙ্কজ কুমার চট্টোপাধ্যায় প্রাথমিক প্রশ্ন কেন? কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে বিশ্লেষণ করার সময় নেই৷ তাই বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত বা সংবাদপত্রের বিশ্লেষণের উপর তাঁদের নির্ভর করতে হয়৷ প্রাথমিক তথ্য যা পাওয়া গেছে তার উপরে নির্ভর করছি বলেই প্রাথমিক প্রশ্নের অবতারণা৷ যাঁদের কাছে সঠিক উত্তর থাকা সম্ভব তাঁদের প্রশ্ন করা নিরাপদ নয় ভেবেই

নির্বাচনী বন্ড কিছু প্রাথমিক প্রশ্ন

পঙ্কজ কুমার চট্টোপাধ্যায়
প্রাথমিক প্রশ্ন কেন? কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে বিশ্লেষণ করার সময় নেই৷ তাই বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত বা সংবাদপত্রের বিশ্লেষণের উপর তাঁদের নির্ভর করতে হয়৷ প্রাথমিক তথ্য যা পাওয়া গেছে তার উপরে নির্ভর করছি বলেই প্রাথমিক প্রশ্নের অবতারণা৷ যাঁদের কাছে সঠিক উত্তর থাকা সম্ভব তাঁদের প্রশ্ন করা নিরাপদ নয় ভেবেই পাঠক সমাজের কাছে প্রশ্নগুলি এক এক করে রাখছি৷ আপনারা সম্ভাব্য যে উত্তর দিতে পারেন সেটা অনুভব করে উত্তরগুলি লিখব৷ বাকি বোঝার কাজটা আপনাদের নিজস্ব৷
প্রশ্ন : আচ্ছা, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কেন পুরো তথ্য ৩০শে জুনের আগে দিতে চায়নি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও?
উত্তর : সরকার বাহাদুর হয়ত এটাই চায়৷ আর হয়ত তাদের তথ্য প্রস্ত্তত নেই৷
প্রশ্ন : তাহলে একদিনের মধ্যে কী করে তথ্য জমা পড়ল?
উত্তর : ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাত-পা বাঁধা চেয়ারম্যান বা ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের কাছে৷ যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তাও জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত৷ পুরো তালিকা এখনও প্রস্ত্তত নেই৷
প্রশ্ন : আচ্ছা, মোট ১২,১১৫ কোটি টাকার বন্ডের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ৬,০৬০.৫০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বিজেপি৷ কেন?
উত্তর : সবচেয়ে বৃহৎ দল৷ তাই তাদের খরচপাতি বেশি৷
প্রশ্ন : এটাই যদি কারণ হয়, তাহলে ব্যাঙ্কের ইতস্তত করার কারণ কী?
উত্তর : সব প্রশ্নের উত্তর থাকে না৷
প্রশ্ন : আপনাকে কমেন্ট করতে বলিনি, শুধু উত্তর দেবেন৷
উত্তর : আচ্ছা৷
প্রশ্ন : আচ্ছা, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল না হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস কেন বিজেপির পরে দ্বিতীয় দল হিসেবে ১,৬০০.৫০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে?
উত্তর : প্রশ্ন করতে থাকুন৷ ঠিক সময়ে উত্তর পেয়ে যাবেন৷
প্রশ্ন : হঁ্যা, সাধারণ মানুষের উপর আমার আস্থা আছে৷ আচ্ছা বিদেশি সংস্থা সান্টিয়াগো মাটিন অধিকৃত সংস্থা ফিউচার গেমিং কেন সবচেয়ে বেশি ১,৩৬৮ কোটি টাকার বন্ড কিনেছে?
উত্তর : নিশ্চয়ই কাগজে পড়েছেন যে এই কোম্পানি ভারতে বেশ রমরমিয়ে ব্যবসা করে৷ তার মধ্যে আছে সংবেদনশীল লটারি ব্যবসা৷ ভারতের নয়টি রাজ্যে এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে৷ তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে৷
প্রশ্ন : বাহ! আপনারা তো বেশ সুন্দর উত্তর দিলেন৷ কারণ কী বলতে পারেন?
উত্তর : ফিউচার গেমিং-এর ভারতে ২০২০-২১ সালে ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২০,০০০ কোটি টাকা৷ আর লটারি ব্যবসার উপর জিএসটির হার ২৮%৷ এইভাবে তারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে শুধু ২০১৭ সালে ৬০০০ কোটি টাকা জিএসটি দিয়েছে৷ কেন্দ্র যেখানে অর্থ দেয় না, সেখানে বামপন্থী কেরলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গও এই লটারি ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গে তো ৩৪ বছর ধরে বামপন্থী সরকার ছিল৷
প্রশ্ন : আপনাদের মন্তব্য করতে নিষেধ করেছি৷ আচ্ছা, ফিউচার গেমিং-এর ওয়েবসাইট বলছে ওই কোম্পানি নাকি ভারতে ব্যবসা করার ফলে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান করেছে৷ মাত্র ২০,০০০ কোটি টাকার ব্যবসায়ে এত সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব?
উত্তর : তথ্যের মধ্যে ‘পরোক্ষ’ কথাটা আছে৷
প্রশ্ন : সত্যিই আপনাদের বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হবে৷ আচ্ছা, এইভাবেই কী ভারত সরকার নির্ধারণ করেছে ভারতে দারিদ্র্যের হার ৫%-এর নীচে?
উত্তর : আপনি আপনার প্রসঙ্গের বাইরে প্রশ্ন করেছেন, তাই উত্তর দেব না৷
প্রশ্ন : সরি! আগে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, দ্বিতীয় দল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ কেন…?
উত্তর : ওই লটারি ব্যবসা করতে দেওয়ার ফায়দা তো তুলতে হবে৷ আর ঘরে ঘরে এত টাকা একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই পাওয়া যায়৷
প্রশ্ন : এই উত্তরটা আমি অংশত নেব৷ আচ্ছা, ফিউচার গেমিং নাকি সিকিম সরকারের ৯১০ কোটি টাকা ক্ষতি করেছে লটারির টিকিটের মূল্য অত্যধিক বাড়িয়ে? এই নিয়ে সিকিম হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল (জানা যায় বিজেপির মদতে)৷
উত্তর : মামলার রায়ে হাইকোর্ট বলে যে, মামলাতে আবেদনকারী ২৬ জুন, ২০১৭ সালের একটি বিলের মাধ্যমে এই ক্ষতির প্রশ্ন তুলেছেন৷ কিন্ত্ত আবেদনকারীর উকিল যে সিএজি রিপোর্টের কথা বলেছেন তা ২০১০-২০১৬ সাল সংক্রান্ত৷ এর পরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আদালত কোনও অসঙ্গতি পাননি আর কোম্পানি সিকিম সরকারের সঙ্গে লটারি ব্যবসার চুক্তি করে ২০১৭ সালে৷ তাই মামলা খারিজ করে দেন মহামান্য হাইকোর্ট৷ অর্থাৎ এটা পরিষ্কার যে, কোম্পানি এর আগে চুক্তি ছাড়াই ব্যবসা করেছে ঘুরপথে৷ আর বিপদ বুঝে চুক্তি করে নিয়ে সতর্ক হয়ে গেছে৷
প্রশ্ন : খুব সুন্দর উত্তর দিলেন৷ মহামান্য হাইকোর্ট অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হলে হয়ত কোম্পানির ২০১০-১৬ সালের কাজকারবার খতিয়ে দেখতে সিবিআইয়ের রিপোর্ট চাইতেন৷
উত্তর : শেষোক্ত মানুষটির কথা আর বলবেন না৷
প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন আদানি-আম্বানির নাম তালিকায় নেই কেন?
উত্তর : দেশ কারা চালায়?
প্রশ্ন : একমাত্র জানতে পারলাম যে অনেক কোম্পানি নিজেদের লাভের থেকে অনেক বেশি অর্থের বন্ড কিনেছে৷ এটা কী করে সম্ভব হল?
উত্তর : গরিব কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা কন্যার বিবাহের জন্য কীভাবে অর্থ জোগাড় করে? পুত্রের ব্রেনে টিউমার হলে গরিব পিতা কী করে? ধার করে৷ তেমনি কোম্পানিগুলি শুধু লাভ থেকে খরচ করবে কেন? হয়ত সঞ্চিত রিজার্ভ ফান্ড আছে৷ অথবা ধার করবে৷ জানেন না ‘আনসিকিউরড লোন’ করার রাস্তা আছে, যা দেবে কোম্পানির ডিরেক্টর বা ডিরেক্টরদের পরিবারবর্গ৷ নির্বাচনী বন্ড কেনা আর গরিব পিতার কন্যার বিবাহ দেওয়া একই কথা৷ আসলে খবরের কাগজ নানানভাবে ফায়দা তুলে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবে৷
প্রশ্ন : ঠিক বলেছেন৷
প্রশ্নকর্তা আকস্মিকভাবে সাক্ষাৎকার মুলতুবি রাখলেন৷ সহূদয় পাঠককুল৷ অন্যায় করে থাকলে মার্জনা করে দেবেন৷