দেখলাম ছোটো ছোটো সাদা কাগজের পুরিয়াতে পাঁচটা করে জেমস।
এ কী! এগুলো কাদের জন্যে?
অদ্ভুত উত্তর— ফ্ল্যাটের বাচ্চাদের নয়। ফ্ল্যাটের আড়ালে যারা থাকে তাদের জন্যে একটা প্যাকেট ভেঙে চারটে জেমস-পুরিয়া।
দোকানির জেমস-পুরিয়ার উচ্চারণ অনেকটা সরপুরিয়ার মতো।
—আর দাম কীভাবে করেন? মূল প্যাকেটের দামের চারভাগের একভাগ?
দোকানদার শিশুপ্রেমী। একগাল হেসে বললেন—
জেমস-পুরিয়ার দাম ক্রেতার হাতে। তারা যদি জেমসের পয়সা চাইতে গিয়ে মায়ের ঠেঙানি খায় তবে ফ্রি পায়।
হায় রে! আমি যদি ক্রেতা হতাম রোজ একটু করে মায়ের পিটুনি খেয়ে নিতাম।
টলোমলো পায়ে এক ক্রেতা এসে দাঁড়ালো। ভুঁড়ির নীচে ইজের। নাইটা ফুলে আছে। বোধহয় ভাদ্রের গরমে নাইয়ে গোলাপি ঘা হয়েছে। নাইপদ্ম।
সে একটা স্লিপ দিলে। তাতে লেখা—নাইফোঁড়ার মলম।
নাইপদ্ম মলম জেমস সব নিয়ে দাম না দিয়ে চলে গেল।
বাঁধানো খাতায় হিসেব লিখছেন দোকানদার।
এতক্ষণে দেখলাম, দোকানটিতে বৈকালিক রোদের সঙ্গে মাখম হয়ে আছে টিউবের ময়লা আলো। আমার খুব সন্দেহ, এমন দোকানি বেশির ভাগ হিসেব শুধু লেখেন। নিখুঁত হিসেব। আদায় কেবল বাচ্চাদের ভালোবাসা। বিকেল বাড়ছিল। দঙ্গল শিশু ভিড় করছিল। তারা নানা জিনিস কিনবে! নানা ক-প্রকার তা তারা জানে না।
ফেরার পথে বাবার কথা মনে পড়ছিল। চোখে একটু একটু জল আসছিল কি! বাবা আমার বড়ো সুন্দর করে মামুলিকে দেখতেন। তাঁর গভীর বিশ্বাস— পৃথিবীতে মামুলি বলে কিছু হয় না। মানুষের মনোনিবেশ মামুলিকে নিমেষে মহীয়ান করে! কতবার ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করেছি— বাবা, আমার কাছে যদি নতুন বিষয় না আসে! উত্তর আসত সহজ পথে…! পথ রে পথ। পথে মিশে থাক। কলম তোর ফাঁকা যাবে না। পুরস্কার না পাস, মানুষ যেন তোর কলম আলো করে থাকে!
ঘোরাঘুরিতে ক্লান্ত ছিলাম বলে বাড়ি ফিরে রোজকার মতো মায়ের ঘরে যাইনি। সিস্টার এসে বললেন— আপনার মা শ’বার দরজা দেখে যে! যান একবার।
গিয়ে জেমস আর মৌরি লজেন্স প্যাকেট দিলাম। একবার পিটপিট করে দেখল।
এবার মায়ের রুগ্ন শরীর ঘুমোবে। কাদা হয়ে যাবে একদম।
দিনের পাওনা তার শেষ হয়েছে।




