দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ঢোলাহাট থানার অন্তর্গত বাঁশতলা নদী ঘাটে কালনাগিনী নদীবক্ষে মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে অনুষ্ঠিত হল শ্রীশ্রী প্রণব সংস্কৃতি মেলা ও গঙ্গা আরতি। পতিত পাবনী কালনাগিনী নদীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মহতি অনুষ্ঠানে নদীতীর জুড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ। হরিদ্বার, বেনারস ও সরযূ নদীতীরের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা আরতির আদলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এলাকার ধর্মীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এই গঙ্গা আরতিতে অংশগ্রহণ করেন বেনারস, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ ও ওঙ্কার মঠের বিশিষ্ট পুরোহিতগণ। মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও সমবেত প্রার্থনায় নদীতীর ভরে ওঠে ভক্তির আবেশে। প্রদীপের আলোয় আলোকিত কালনাগিনী নদী যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়, আর উপস্থিত ভক্তদের হৃদয়ে জাগে গভীর আধ্যাত্মিক চেতনা।
Advertisement
এ বছর গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয় ভারত সেবাশ্রম সংঘের আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের গৌরবময় ১৩১তম শুভ আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে। এই উপলক্ষ্যে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী গঙ্গা আরতির আয়োজন করা হয়। ১০০১টি প্রদীপ, ১৩১টি ধুনাচি ও ১৩১টি মশাল হাতে নিয়ে মায়েরা সমবেতভাবে আরতি পরিবেশন করেন। এই দৃশ্য দর্শনার্থীদের মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং সমগ্র অনুষ্ঠানকে দেয় এক ঐতিহাসিক মর্যাদা।
Advertisement
কালনাগিনী নদীর উভয় তীরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মানুষজন এই গঙ্গা আরতিতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের ধন্য মনে করেন। নদীতীরজুড়ে আলো, ধূপ ও ধুনোর সুবাসে তৈরি হয় এক অপূর্ব পরিবেশ, যা উপস্থিত সকলের মনে এক অনাবিল শান্তি ও ভক্তিভাবের সঞ্চার করে।
মন্মথপুর প্রণব মন্দির পরিচালিত এই গঙ্গা আরতি গঙ্গাসাগরের আবহে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই আয়োজন জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু দর্শনার্থী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন।
চারদিনব্যাপী এই মহতি অনুষ্ঠানে ভক্তদের জন্য নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। ভজন, কীর্তন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবনার সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো হয়। শ্রীশ্রী প্রণব সংস্কৃতি মেলা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভক্তি, ঐক্য ও সংস্কৃতির বার্তা বহন করে সমাজের সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আগামী দিনে কালনাগিনী নদীর তীরে এই গঙ্গা আরতি আরও বৃহত্তর পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভক্ত ও স্থানীয় মানুষজন।
Advertisement



